সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৫ বছর বয়সী শিশু হৃদয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ৩ জনকে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষক সেজে ধান কাটছিলেন তারা। পুলিশও কৃষকের ছদ্মবেশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের আটক করে।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তিনি জানান, শাহজাদপুর চৌকি আদালতে তাদের তোলা হয়। আদালতে দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো, উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামের হাতেম সরদারের দুই ছেলে পেশকার সরদার ও হামেদ সরদার এবং হামেদের শ্যালক লাল মিয়া। নিহত শিশু হৃদয় ফারুক সরদারের ছেলে। অভিযুক্ত পেশকার ও হামেদ সম্পর্কে শিশুটির আপন চাচা।
পুলিশ জানায়, গত (১৬ এপ্রিল) বাড়ির পাশে টয়লেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফারুক সরদারের সঙ্গে বড় ভাই হামেদ সরদারের বিরোধ চলাকালে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো হাঁসুয়ার আঘাতে শিশু হৃদয়ের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফারুক সরদার বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিরা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হাওর এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে কৃষকের ছদ্মবেশে ধান কাটার অভিনয়ে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে জবানবন্দিতে হামেদ সরদার দাবি করেন, ছোট ভাই ফারুককে লক্ষ্য করে হাঁসুয়ার কোপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফারুক সরে গেলে সেই আঘাত গিয়ে লাগে শিশু হৃদয়ের মাথায়। পরে আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


