পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ভেজাল মসলার অবাধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থানে গোপনে নিম্নমানের ও ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়া।
অভিযোগ রয়েছে, রানী বাজারের শাহী মসজিদ রোড, ভৈরব বাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনের এলাকা, নদীর পাড়সহ বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে এসব ভেজাল মসলা তৈরির কারখানা। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে এসব অসাধু চক্রের তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহী মসজিদ রোডের এক বাসিন্দা জানান, প্রায় প্রতি রাতেই সেখানে ধানের কুড়া, কাঠের গুঁড়া ও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল রং মিশিয়ে মসলা তৈরি করা হয়। তার দাবি, এলাকার একটি মিলের মালিক নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন, যার কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
এদিকে ভৈরব বাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে থাকা এক ব্যবসায়ী বলেন, “দিন-রাত তালা বন্ধ করে এখানে ভেজাল মসলা ভাঙার কাজ চলে। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কী হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভেজাল মসলা বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠের গুঁড়া, কৃত্রিম রং ও নিম্নমানের উপাদান মিশ্রিত মসলা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও পাকস্থলীর জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভেজাল মসলা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।


