বিজ্ঞাপন

মুরাদনগরে রক্তিম আভা ছড়াচ্ছে দুর্লভ “মে ফুল”

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে প্রকৃতির আপন খেয়ালে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে কিছু দুর্লভ ও বিস্ময়কর রূপের। ঠিক তেমনি এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। সেখানে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়ার শখের বাগানে ফুটেছে দুর্লভ “মে ফ্লাওয়ার”। সুবাসহীন এই ফুলের রক্তিম ও সোনালী আভা এখন স্থানীয়দের কাছে এক পরম বিস্ময়ের নাম।

বিজ্ঞাপন

শৌখিন এই বাগানের মালিক আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়ার বৃক্ষপ্রেমের গল্পটি বেশ পুরনো। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি কেবল নিজের বাড়িতেই নয়, বরং বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার আঙিনাতেও পরিবেশবান্ধব ও ঔষধি গাছ রোপণ করে আসছেন। মূলত বাবা সুরুজ মিঞা ভূঁইয়া এবং বড় ভাই ফেরদৌস আহমেদ ভূঁইয়ার হাত ধরে শুরু হওয়া পারিবারিক এই বাগান চর্চাকে তিনি পরম মমতায় টিকিয়ে রেখেছেন। তার তিনটি টবে ফুটে থাকা এই মে ফুলগুলো কেবল মে মাসের শুরুতেই দেখা দেয় এবং এদের আয়ুষ্কাল থাকে মাত্র এক সপ্তাহ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত। এরপর ফুলগুলো শুকিয়ে গিয়ে গাছটি ধীরে ধীরে মাটির সাথে মিশে গেলেও এর কন্দগুলো মাটির নিচে সুপ্ত অবস্থায় বেঁচে থাকে পরবর্তী বছরের প্রতীক্ষায়।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পুর মতে, মে ফ্লাওয়ারের আদি নিবাস আফ্রিকা মহাদেশে হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সাথে এটি বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে। বছরের সিংহভাগ সময় এই গাছটি নিভৃতে থাকলেও মে মাসে হঠাৎ মাটি ভেদ করে ডাঁটা বের হয়ে বলের মতো গোলাকার ফুল ফোটা এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা। স্বল্পস্থায়ী এই ফুলগুলো ঝরে পড়ার পরেও এর বাহারি পাতাগুলো বাগানের সৌন্দর্য বজায় রাখে।

প্রকৃতির প্রতি এমন ভালোবাসা এবং বিরল প্রজাতির ফুল সংরক্ষণের এই উদ্যোগটি এখন এলাকার মানুষের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পড়ুন- ১০ মামলায় আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন