বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকান্ডের ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বেইজ স্কুলের মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকান্ডের ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা।

বিজ্ঞাপন

রোববার দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থার পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ। প্রধান আসামী আজিম নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল ও মিমকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়।


পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত মূল আসামীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় বাসা থেকে ঔষধ কেনার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইয়াছিন আরাফাত। এর দু’দিন পর ১৩ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় আশরাফ আলী এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ইয়াছিনের মা আফরিনা নাসরিন। দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় মামলাটি পিবিআই’র কাছে দায়িত্ব দেয়া হয়।
পিবিআই’র তদন্তে বেরিয়ে আসে মূল আসামী আজিম হোসাইনের স্ত্রী নুসরাত জাহান মিমের ফুফাতো ভাই ছিলেন নিহত ইয়াছিন। আজিম ও মিমের মধ্যে দাম্পত্য কলহ এবং উভয়ের পরকীয়া নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল।
একবার মিমের মোবাইলে ইয়াছিনের মেসেজ দেখে আজিম তাকে পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে সন্দেহ করতে শুরু করেন। মিম ইয়াছিনকে নিজের ফুফাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিলেও আজিম তা বিশ্বাস করেননি। এরই জেরে বন্ধু ফয়সালকে সাথে নিয়ে ইয়াছিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজিম।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াছিন ঔষধ কিনতে বের হলে আজিম ও ফয়সাল তাকে কৌশলে সিএনজিতে তুলে নেয়। এরপর আরও কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ইয়াছিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে লেকের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মে ডেমরা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা শনিরআখরা থেকে ফয়সালকে এবং রূপগঞ্জ থেকে মিমকে গ্রেফতার করা হয়। মিমের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। ৬ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আজিম নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।


অন্যদিকে, ৭ মে ফয়সাল ও মিমকে আদালতে পাঠিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।


পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, ঘটনায় জড়িত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পড়ুন- বঙ্গোসাগরের ওপর সেই আলো ছিল ভারতীয় অত্যাধুনিক মিসাইল ‘অগ্নি-৫’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন