হয়তো এখনও বাড়ির ছাদে চেনা-অচেনা দেশগুলোর পতাকা ওঠেনি, টেলিভিশনের দোকানেও ভিড় জমেনি, পাড়ার আড্ডাগুলোতেও মেসি-রোনালদো এসে হাজির হননি–তবে আটলান্টিকের পারে কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের ঘণ্টা বেজে গেছে। ১১ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম এস্তাদিও আজতেজায় স্বাগতিক মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর।
চার বছরের প্রতীক্ষা, নির্ঘুম রাত আর ফুটবল রোমান্টিসিজমের যে অদ্ভুত মায়া, তা আবার দড়জায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসরকে সামনে রেখে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮, আয়োজক দেশের সংখ্যাও বেড়ে ৩, ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে ১০৪– ছিয়ানব্বই বছরের আদি এই বিশ্ব আসরে যা কখনও কেউ দেখেনি। এই যে লাফ, একে অনেকেই বলছেন ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যুক্তি ‘ফুটবলকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ করা। তিনি বলেন, ‘ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে ১৩৫ দেশ কখনোই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। দলের সংখ্যা বাড়লে আরও বেশি দেশ স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।’
ফিফার এই বিশালতার ক্যানভাসে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে উজবেকিস্তান, জর্ডান, কুরাসাও আর আফ্রিকার দেশ কেপভার্দে; যার মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাও অবাক করেছে সবাইকে। মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার কুরাসাও প্রথমবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে নামছে। অথচ ১৭ কোটির বাংলাদেশ, ফুটবল নিয়ে যাদের আবেগ ছুঁয়ে দেয় বিশ্বকে, তারা এখনও বিশ্বকাপ থেকে অনেক দূরে। জনসংখ্যার এই অঙ্কের হিসাবে বাংলাদেশের চেয়েও বেশি দুর্ভাগা ভারত, ইন্দোনেশিয়া আর পাকিস্তান। দেশগুলোর জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হলেও তারাও কখনও বিশ্বকাপ ফুটবলে পা রাখতে পারেনি।
বিশ্বকাপ মানেই এক মাসব্যাপী অনাবিল উৎসব। যদিও এবার বড় বিশ্বকাপে উৎসবের দিনও বেড়ে ৪৫ দিন হয়েছে (১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই)। সময়টাও সুবিধামতো নয়, বিশ্বকাপে বেশির ভাগ ম্যাচই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা আর সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। কিছু ম্যাচ থাকবে রাত ১টায় আর ১০টায়। আসলে উত্তর আমেরিকার যে ১৬টি শহরের খেলা হবে সেখানকার টাইমজোনের ব্যবধানও অনেক।
তবে বিশ্বকাপে যে সূচিগুলো নিয়ে বাংলাদেশিদের বেশি আগ্রহ সেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভোররাতেই। গ্রুপ পর্বে মেসির আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন সকাল ৭টায়। অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ২২ জুন রাত ১১টায় আর ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে সকাল ৮টায়। ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে নিউজার্সিতে। ১৪ জুন ভোর ৪টায় তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ মরোক্কো। এরপর ২০ জুন সকাল ৭টায় হাইতির বিপক্ষে নামবে তারা। ২৫ জুন ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।
এবারও ব্রাজিল তাদের অপূর্ণ ‘হেক্সা মিশন’ নিয়েই যুক্তরাস্ট্রে পাড়ি জমাবে। আর্জেন্টিনা যাবে তাদের চতুর্থ ও মেসির হাতে দ্বিতীয় শিরোপা তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। নিশ্চিতভাবেই এটিই মেসি, রোনালদো, মডরিচদের শেষ বিশ্বকাপ আসর। সেই সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল–হালান্ডদের আগমন। তাই প্রজন্মের একটি পালাবদলও দেখা যাবে এই আসরে।
ফিফার থিম ও স্লোগান ‘উই আর টোয়েন্টি সিক্স’। আয়োজক তিনটি দেশ; যার মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অফিসিয়াল থিম সংও তৈরি হয়ে আছে। কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ে মিলে গেয়েছেন ‘দাই..দাই…’ গানটি। দুদিন বাদে যার অফিসিয়াল প্রকাশ করা হবে। মাসকটেও তিন দেশের ভিন্নতা এসেছে। তিনটি মাসকট থাকছে এবারে। কানাডার জন্য ‘ম্যাপল’, মেক্সিকোর জন্য ‘জায়ু’ এবং যুক্তরাস্ট্রের ‘ক্লাচ’।
বিশাল এই আসরে এবারই প্রথম তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দেশে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। একে অন্যকে এখানেও টেক্কা দেওয়ার সুযোগ পাবে যুক্তরাস্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য এখন শুধুই অপেক্ষা আর ক্ষণগণনা।
পড়ুন:পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
দেখুন:‘ইউনূস সাহেবের আমলে খারাপ কাজ বেশি হয়েছে, সর্বনাশ বেশি হয়েছে’ |
ইমি/


