বিজ্ঞাপন

টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়ার সঠিক সময় কখন?

সময়মতো পদক্ষেপ নিলে টিটেনাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই ছোট আঘাতকেও অবহেলা না করে, প্রয়োজনে দ্রুত টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

শরীরে সামান্য কাটা, পেরেক ফুটে যাওয়া বা মরচে ধরা লোহায় আঁচড়— এসবকে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী টিটেনাস সংক্রমণ। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা মতে, শরীরের কোনো অঙ্গে আঘাতের পর, সময় মতো টিটেনাস ইনজেকশন না নিলে ঘটতে পারে মারাত্মক বিপদ।

টিটেনাস মূলত কী?

টিটেনাস হলো এক ধরনের ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, যা সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে, ফলে পেশিতে প্রচণ্ড টান বা খিঁচুনি শুরু হয়। ‘ক্লস্ট্রিডিয়াম টিট্যানি’ নামের ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মাটি, ধুলো, মরচে ধরা লোহা কিংবা পশুর বর্জ্যে বাস করে। মানব শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে, এমনকি পোড়া বা পশুর কামড় থেকে এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কাটা বা গভীর ক্ষতের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিটেনাস টিকা নেওয়া উচিত। কারণ দেরি হলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।

টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়ার সঠিক সময় কখন?

চিকিৎসকদের মতে, আঘাত পাওয়া বা কেটে যাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ সময়। কিন্তু ক্ষত যদি গভীর হয় বা মাটি, মরচে ধরা কোনো জিনিস, ধুলো কিংবা নোংরা কোনো কিছুর সংস্পর্শে আসে, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, টিটেনাস জীবাণু সংক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যেই এর প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে। তাই অপেক্ষা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন এতো ভয়ংকর টিটেনাস?

টিটেনাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে একধরনের শক্তিশালী টক্সিন (বিষ) তৈরি করে, যা সরাসরি মস্তিষ্ক ও পেশির স্বাভাবিক সংযোগ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে প্রথমে মুখের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, যাকে বলা হয় লকজ। এরপর ঘাড়, পেট ও শরীরের বিভিন্ন অংশে পেশির তীব্র খিঁচুনি শুরু হতে পারে। এমনকি এর ফলে শরীরের হাড় পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে।

এছাড়া সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ হতে পারে, যে রোগীর শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, খাবার গিলতে কষ্ট হয়, এমন কী জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, টিটেনাসের টক্সিন একবার স্নায়ুতে পৌঁছে গেলে সেটিকে পুরোপুরি সারানোর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন : মেট্রোনিডাজল) এই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করলেও, স্নায়ুকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে না। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে বড়ো সুরক্ষা।

টিকা একবার নিলেই কি সারাজীবনের জন্য সুরক্ষা?

উত্তর না, সাধারণত টিটেনাস টিকার প্রভাব পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিটেনাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। তাই প্রতি ১০ বছর অন্তর বুস্টার ডোজ নেওয়া জরুরি। আর ক্ষত যদি গভীর বা সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে প্রতি পাঁচ বছর পর বুস্টার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?

কাটা বা ক্ষত গভীর হলে, মরচে ধরা লোহা বা ধারালো জিনিসে আঘাত লাগলে, ক্ষতস্থানে ফোলা, ব্যথা বা পুঁজ দেখা দিলে, শেষ কবে টিটেনাস টিকা নিয়েছেন মনে না থাকলে, ক্ষত মাটি বা নোংরা জিনিসের সংস্পর্শে এলে।

টিটেনাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। টিটেনাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো টিকাদান। তাই সময়মতো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পড়ুন:সাফি মাল্টিমিডিয়া স্কুলে ব্যতিক্রমধর্মী পরীক্ষা.

দেখুন:‘ইউনূস সাহেবের আমলে খারাপ কাজ বেশি হয়েছে, সর্বনাশ বেশি হয়েছে’ |

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন