নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন শুধু সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, টেকসই উন্নয়নের জন্য অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই উন্নয়ন ছাড়া জাতির সার্বিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অথচ এখনো বাংলাদেশের নারীরা নানা দিক থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে। নারীর অধিকার নিশ্চিতে সমাজের সব মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ পস) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে নাগরিক সমাজ সম্মেলন-২০২৬- এ এসব কথা বলেন বক্তারা। এই সম্মেলনের আয়োজন করে বরেন্দ্র উন্নয়ন সংস্থা (বিডিও)। এতে সহযোগিতা করেছে উন্নয়ন সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিস বিভাগ। স
ম্মেলন উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে দেশে অনেক ভালো ভালো আইন আছে। তবে তা যথাযথ বাস্তবায়নের জায়গায় আটকে আছে। সমাজ সংবেদনশীল না হলে পরিবর্তন আসে না। এত কিছুর পরও দেশের নারীরা এগিয়ে চলেছেন। তবে এই অগ্রগতি যত দ্রুত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তবে যতটা দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া দরকার সেভাবে হয়তো হচ্ছে না। এখনও নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নিজ নির্বাচনী এলাকায় বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের নারীরা বৈষ্যম্যের শিকার হওয়ার একটা অন্যতম কারণ হচ্ছে বাল্যবিবাহ। ১৮ বছর হওয়ার আগেই কিশোরীদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এতে অবুঝ এই কিশোরী শিক্ষার অধিকার থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন পরিবারে গিয়ে নিজের অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারছে না। দরিদ্রতা দূরীকরণে যেভাবে কাজ হচ্ছে, একই শক্তি দিয়ে বাল্যবিবাহ রোধেও কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে সমাজের সব মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সব পক্ষকে সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
বিডিওর নির্বাহী পরিচালক আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মরিয়ম নেসার সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আবু সালেহ মো. মাসুদুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিপ্তরের উপপরিচালক আমিনা খাতুন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সুশীল প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মৌসুমী বিশ্বাস, সুশীল প্রকল্পের জেলা সুশীল সমাজ সংগঠনগুলোর সমন্ময়কারী বেলায়েত হোসেন ও এসএম রায়হান আলম।
সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, আজকের সম্মেলনে তৃণমূলের মানুষের যেসব আশাআকাঙ্খার কথা তুলে ধরলেন সেগুলো খুবই যৌক্তিক। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করবেন। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবেন।
জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক আবু সালেহ মো. মাসুদুল ইসলাম বলেন, নওগাঁতে নারীরেদের পিছিয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো বাল্যবিবাহ। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, বাল্যবিবাহের দিক দিয়ে সারা দেশের মধ্যে তৃতীয়। আবার বাল্যবিবাহের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে কিশোরীদের বিয়ের হারের দিক দিয়ে নওগাঁ সারা দেশের মতো প্রথম স্থানে আছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। সরকারিভাবে ব্যাপকভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েও কাজ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।
পড়ুন- কোরবানির পশুবাহী পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


