আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরের খামারিরা। জেলার খামারে খামারে এখন কোরবানির পশুর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা চলছে। কেউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন সবুজ ঘাস, কেউবা গোসল করিয়ে সাজিয়ে তুলছেন বিক্রির জন্য। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পশু উৎপাদন জেলা হিসেবে পরিচিত জামালপুরে এবার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে উৎপাদনে স্বস্তি থাকলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না খামারিদের।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭ উপজেলা ও ৮ পৌরসভাজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ১২ হাজার ১৮৪টি খামারে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ লালন-পালন করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে গবাদিপশু পালনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে তাদের জীবিকা ও স্বপ্ন। কিন্তু প্রতি বছরই হাটে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, পরিবহন সংকট এবং ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কা তাদের অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না— সেই শঙ্কা থেকেই যায়।
ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের খলিফাপাড়া এলাকার খামারি ফারুক মিয়া বলেন, “সারা বছর কষ্ট করে পশু বড় করি। এখন শুধু চাই, হাটে যেন ভালো দাম পাই এবং নিরাপদে বিক্রি করতে পারি।”
খামারিদের স্বস্তি দিতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীসহ প্রায় ৪০টি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খামারিদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্বিঘ্ন পশু পরিবহনে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলীম জানান, জেলার চাহিদা পূরণের পরও পর্যাপ্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। পাশাপাশি খামারিদের সব ধরনের কারিগরি ও স্বাস্থ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা লাভবান হতে পারেন।
প্রান্তিক খামারিদের কাছে কোরবানির পশু শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো শ্রম আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। তাই ঈদের হাট ঘিরে এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা— ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হোক পরিশ্রমে লালন করা প্রতিটি পশু।
পড়ুন: টিকা নিয়ে দোষ খোঁজার আগে মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আর/


