মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক আগ্রহ।
মেক্সিকোর উদ্বোধনী আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বখ্যাত পপতারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়। তারা পরিবেশন করেন বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’। তাদের পরিবেশনায় গ্যালারিজুড়ে তৈরি হয় উচ্ছ্বাসের আবহ। এছাড়া আন্দ্রেয়া বোচেলি, ডেভিড গেটা, মেগান থি স্ট্যালিয়ন ও ইজেএ একসঙ্গে পরিবেশন করেন বিশ্বকাপের আরেকটি আলোচিত গান ‘ডিএনএ’, যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
আয়োজক দেশ মেক্সিকোর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও উদ্বোধনী মঞ্চে তুলে ধরা হয়। জনপ্রিয় রক ব্যান্ড মানা, পপ গায়িকা বেলিন্ডা, লোকসংগীতশিল্পী লিলা ডাউনস এবং ঐতিহ্যবাহী কুম্বিয়া সংগীত দল লোস অ্যাঞ্জেলস আজুলিস নিজেদের পরিবেশনায় দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। কিংবদন্তি মারিয়াচি শিল্পী আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ মেক্সিকোর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার ড্যানি ওশেন, কলম্বিয়ার জে বালভিন এবং রায়ান কাস্ত্রোর রেগেটন পারফরম্যান্সে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তবে উদ্বোধনী আয়োজন শুধু মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সহ-আয়োজক কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ১২ জুন টরন্টো স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচের আগে কানাডার অনুষ্ঠানটি হবে। সেখানে পারফর্ম করবেন নোরা ফাতেহি, মাইকেল বুবলে, জেসি রেয়েজ, অ্যালানিস মরিসেত্তে, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।
এর একদিন পর, ১৩ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই মঞ্চে পারফর্ম করবেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। তার সঙ্গে থাকবেন র্যাপার ফিউচার, ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আনিতা, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা, নাইজেরিয়ার রেমা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় শিল্পী টাইলা।
বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যও বিশ্বকাপ উপভোগের একাধিক সুযোগ থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে সময় টেলিভিশন। এছাড়া বিটিভি ও টি-স্পোর্টসেও বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকরা টফি, মাই রবি ও বায়োস্কোপের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আসরের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারবেন।
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবল, সংগীত ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আজতেকা স্টেডিয়াম থেকে সূচনা হলো নতুন এক উৎসবের।
পড়ুন : বিশ্বকাপের দামামা বাজল


