বিজ্ঞাপন

সফটওয়্যারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে মেটার কর্মীরা

কর্মীদের কম্পিউটারে মাউস ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছেন মেটার কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অফিসে লিফলেট বিতরণ করে কর্মীদের অনলাইন পিটিশনে সই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আসন্ন ছাঁটাই পরিকল্পনার মধ্যেই এই প্রতিবাদ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা ছবিতে দেখা গেছে, মিটিং রুম, ভেন্ডিং মেশিন এমনকি টয়লেট পেপার ডিসপেনসারের ওপরও এসব লিফলেট রাখা হয়েছে।

লিফলেটে কর্মীদের অনলাইনে একটি পিটিশনে সই করার আহ্বান জানানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, “এমপ্লয়ি ডেটা এক্সট্র্যাকশন ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে চান না?” কর্মীদের ভাষ্য, নতুন এই সফটওয়্যার তাদের দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা সম্প্রতি কর্মীদের কম্পিউটারে এমন একটি প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। যা মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক করা ও বিভিন্ন মেনু ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, এই তথ্য ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। যা একসময় কর্মীদেরই প্রতিস্থাপন করবে।

এই প্রতিবাদ এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন আগামী সপ্তাহে মেটা তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস ধরেই প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও বড় পরিসরের চাকরি কাটছাঁট নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

প্রযুক্তি বিষয়ক গণমাধ্যমগুলো বলছে,, এটি মেটার ভেতরে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য শ্রমিক আন্দোলনের সবচেয়ে উদাহরণ। কিছু কর্মী এখন সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা কর্মপরিবেশ, নজরদারি ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

অবশ্য মেটা এই প্রযুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন এক বিবৃতিতে বলেছেন, মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে, তা বোঝার জন্য বাস্তব তথ্য প্রয়োজন। মাউসের নড়াচড়া, বাটনে ক্লিক বা বিভিন্ন মেনু ব্যবহারের ধরন এআই মডেলকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।

মেটার ভাষ্য, তারা এমন এআই এজেন্ট তৈরি করছে যা ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কম্পিউটারভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। সেই কারণে বাস্তব ব্যবহার আচরণ বিশ্লেষণ জরুরি।

তবে কর্মীদের পিটিশন ও লিফলেটে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইনও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কর্মপরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়া কর্মীদের আইনগত অধিকার।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, যুক্তরাজ্যেও মেটার কর্মীদের একটি অংশ ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা ‘ইউনাইটেড টেক অ্যান্ড অ্যালাইড ওয়ার্কার্স’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন। কর্মীরা নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য আলাদা ওয়েবসাইটও চালু করেছেন।

সংগঠনটির প্রতিনিধি এলিনর পেইনের ভাষ্য, মেটার কর্মীরা এখন ব্যবস্থাপনার “ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল এআই কৌশলের” চাপ বহন করছেন। তার দাবি, কর্মীদের একদিকে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে এমন প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। যা ভবিষ্যতে তাদের জায়গা নিতে পারে।

পড়ুন:সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

দেখুন:সিরাজগঞ্জে বাড়ছে হামের রোগী, বিছানা না পেয়ে শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে |

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন