তামিলনাড়ু রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়ে নিজের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রিকি রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে স্পেশাল ডিউটি অফিসার (ওএসডি) পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। তার দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)-এর জোটসঙ্গী এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওএসডি হিসেবে ভেট্রিভেলের নিয়োগের মাত্র একদিন পরই তা বাতিল করা হলো। টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেওয়া দলগুলো বিদুথলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), সিপিআইএম এবং সিপিআই প্রকাশ্যে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে।
বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগে ভিসিকে বিধায়ক বাণী আরসু সরকারকে কুসংস্কার বর্জন করে বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী চিন্তায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের উচিত জ্যোতিষশাস্ত্রকে নয়, বরং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাকে গুরুত্ব দেওয়া।
বাম দল সিপিআইএম ও সিপিআইও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়। সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো বৈজ্ঞানিক মানসিকতা ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার ঘটানো। জনগণের অর্থে একজন জ্যোতিষীকে সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া কুসংস্কারকে উৎসাহিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে দেশিয়া মুুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজাগাম (ডিএমডিকের) নেত্রী প্রেমলতা বিজয়কান্ত এই নিয়োগ নিয়ে বিজয়কে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, রাধন পণ্ডিতকে ওএসডি করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর মানুষের পক্ষ থেকে আমি এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। তিনি যদি আপনার গুরু হন, তাহলে ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখুন। তরুণরা আপনাকে ভোট দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আপনি কী বার্তা দিচ্ছেন, সেটি ব্যাখ্যা করা উচিত।
যদিও ভিসিকে এবং বাম দলগুলো টিভিকে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেনি, তবে তাদের এই অসন্তোষ তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া সি জোসেফ বিজয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

