বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠককে কেন্দ্র করে (১৩ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক পরিস্থিতি এবং বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন।

বুধবার (১৩ মে) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৯ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৫৮ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৯ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে হয় ১০১ দশমিক ৭৯ ডলার।

গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মূলত ১০০ ডলারের আশপাশে বা তার ওপরে অবস্থান করছে। যুদ্ধের জেরে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়।

ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিটি নতুন তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ফলে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কিংবা জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি হুমকির মুখে পড়লে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই- উভয় ধরনের তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে।

তেলের দাম কমার প্রবণতা কিছুটা থেমে যায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নতুন প্রতিবেদনের পর। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মোট চাহিদা পূরণ করতে পারবে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বৃদ্ধির কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে এপ্রিল মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে ৮৮ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এদিকে মঙ্গলবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার আশাও কমে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। যদিও শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে এবং তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার চাপ এখনো বহাল থাকলেও চীন বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আর্থিক চাপে ইসলামী ব্যাংক-লোকসান ২৮৮ কোটি টাকা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন