খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বাস সার্ভিস, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।
তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে। খুলনা সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে পাঁচ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে চার হাজার ১৫৮ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়, ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এ কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। প্রথম পর্যায়ে ১০ জেলার ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, গত ১৮০ দিনে সারাদেশে এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১ হাজার ৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, তিন হাজার ২৪৮টি সড়ক প্রচার ও দুই হাজার ৩৬১টি অনলাইন প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। একই সময়ে খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, দুটি নারী সমাবেশ ও একটি ফ্যামিলি সমাবেশ আয়োজন করেছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এ সময় খুলনার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মো. ইব্রাহিম-আল-মামুন।
উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের ৬৪টি জেলা ও চারটি উপজেলা তথ্য অফিসে একযোগে এ প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।


