নওগাঁর পোরশায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অপহরণ, মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আশরাফুল আলম নামের এক ব্যক্তি। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে শহরের একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি মূলত টাকা-পয়সা লেনদেন ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল আলম বলেন, গত সোমবার বিকেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পোরশা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান তার মায়ের জমির দলিল সংশোধনের কাজে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সুমন নামের একজন তাকে অফিসের বাইরে ডেকে নেয়। পরে বাবু, তার ভাই মেসবাহুল ও সুমনসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জন তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১০০ টাকার তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্প পেপারে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আশরাফুল আরও বলেন, খবর পেয়ে তার ভাই ট্রিপল নাইনে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পুলিশের সামনেও তাকে মারধর করা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তদের দাবি মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ২০০৮ সালে নিতপুর পূর্ব দিয়াড়াপাড়া এলাকায় ইটভাটার জন্য ১ দশমিক ৫৮ একর জমি মেসবাহুল ও বাবুর কাছে ভাড়া দেন তিনি। পরে তারা অন্য একজনের কাছে জমি লিজ দিলে সেই ব্যক্তি তাকে ভাড়া পরিশোধ করতেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা ১৭ লাখ টাকা দাবি করছেন এবং জমি লিখে নিতে চাপ দিচ্ছেন। এখনো তাদের কাছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. বাবু বলেন, তার ভাই মেসবাহুল ইটভাটা করার জন্য আশরাফুলের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছিলেন। পরে আশরাফুল ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে জমি লিখে দিতে রাজি হন। সেই টাকা দেওয়ার পরও তিনি জমি লিখে দেননি এবং টাকা ফেরতও দেননি। এ নিয়ে আগে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। ঘটনার দিন আলোচনার জন্য তাকে আনা হয়েছিল। তবে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছে বলে স্বীকার করেন বাবু।
এ বিষয়ে পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, একজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ কাউকে আটক অবস্থায় পায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে টাকা-পয়সা ও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাদের থানায় ডাকা হয়েছিল, তবে তারা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। অপহরণের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।
পড়ুন- তিনদিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প


