নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে রেলপথ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের নতুন প্রতিশ্রুতি দিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলায় জেলা পরিষদে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, ঝারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন হতে দুর্গাপুর উপজেলা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও জরিপ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। আমরা সেই প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করছি। খুব শীঘ্রই দুর্গাপুরবাসী রেল যোগাযোগের সুফল ভোগ করতে পারবেন।”
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে এলাকায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বাস্তবায়ন হলেসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হবে। রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে তা দুর্গাপুরের পর্যটন ও অর্থনৈতিক খাতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে।
এ সময় তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান তুলে দেশপ্রেম ও ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে কাউকে পা না দেওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দেয় এবং উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় এই সভাটি দুর্গাপুরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি জনপদ দুর্গাপুরের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর হবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।মান উন্নয়ন হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।


