বিজ্ঞাপন

কুলাউড়ায় স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ

“শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের কর্মসূচি, নাকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ার আয়োজন?”— এমন প্রশ্ন এখন অভিভাবক ও সচেতন মহলের।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় শুরু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএসটিআই অনুমোদনের তথ্যবিহীন বনরুটি, কালো খোসাযুক্ত কলা এবং নিম্নমানের ডিম বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিতরণ করা বনরুটির মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক রুটির খোসা কালচে ও অস্বাভাবিক দেখায়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দেওয়া কলার খোসা কালো ও নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কিছু বিদ্যালয়ে বিতরণ করা ডিম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বড়কাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর জাহান বেগম, প্রতাবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খায়রুল ইসলাম খান, পাঁচপীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিন এবং রাঙ্গিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশিল চন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা হলে তারা খাদ্যের মান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

একজন প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শিশুদের জন্য যে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তার মান নিয়ে শুরু থেকেই আমাদের আপত্তি রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী খাবার দেখে খেতেও অনীহা প্রকাশ করেছে।”

আরেক শিক্ষক বলেন, “সরকারের ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে যদি নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়, তাহলে পুরো কর্মসূচির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।”

এ বিষয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শিবনাথ ভট্রাচার্জ বলেন, “নিম্নমানের বা অপরিচ্ছন্ন খাবার শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সংরক্ষণে ত্রুটিপূর্ণ ডিম, নিম্নমানের বেকারি পণ্য বা অতিপাকা ও নষ্ট হওয়ার উপক্রম ফল খেলে শিশুদের খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিশুদের পুষ্টি ও স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোমলমতি শিশুদের জন্য সরকার যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সরবরাহকৃত বনরুটির বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে। যদিও পণ্যের মোড়কে তার কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরকারের উদ্দেশ্য যেখানে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, সেখানে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ পুরো কর্মসূচিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত, খাদ্যের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ধর্ষণের শিকার বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধীর সন্তান প্রসব, থানায় মামলা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন