মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা না করার বিষয়ে সৌদি আরব আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে এ উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদ এমন একটি কাঠামো বিবেচনা করছে, যা ১৯৭৫ সালের হেলসিংকি অ্যাকর্ড দ্বারা অনুপ্রাণিত। শীতল যুদ্ধের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ওই চুক্তি হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ ধারণাকে সমর্থন দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ সংঘাত ঠেকানো যায় এবং ইরানকেও কিছু নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হয়।
সাম্প্রতিক সংঘাতের পর উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, দুর্বল হলেও ইরান আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আরব দেশগুলোর উদ্বেগ এখনো রয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েল, গাজা, লেবানন ও সিরিয়াকে ঘিরে চলমান অস্থিরতাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আরও বিস্তৃত করে সেখানে কাতার ও তুরস্ককেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।


