ভারতের উত্তরপ্রদেশে আঘাত হানা ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) প্রবল ঝড়, বজ্রপাত ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায় এবং শত শত গাছ উপড়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে।
উত্তরপ্রদেশের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ মে’র ওই দুর্যোগে প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ৮৯ বলা হলেও শুক্রবার তা বেড়ে ১১১ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭২ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১১৭ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে এ সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রায় ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার এ রাজ্যে বর্ষা মৌসুমের আগে গ্রীষ্মকালে প্রায়ই এ ধরনের বিধ্বংসী ঝড় ও বজ্রপাত হয়, যা প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ।
ঝড়ের ভয়াবহতা বোঝাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, বেরেলি জেলায় ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরের টিনের চালের সঙ্গে এক ব্যক্তি উঁচুতে উড়ে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নানহে আনসারি নামের ওই শ্রমিক জানান, ঝড়ের সময় তিনি একটি দড়ি দিয়ে ঘরের টিনের চাল বাঁধার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই প্রচণ্ড বাতাসের ঝাপটায় টিনসহ তিনি প্রায় ৫০ ফুট উঁচুতে উঠে যান এবং প্রায় ৮০ ফুট দূরে পানিপূর্ণ একটি ভুট্টাক্ষেতে আছড়ে পড়েন। নিচে টিনটি আগে পড়ায় এবং জমিতে পানি থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে জানান।
পড়ুন: ট্রেনে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনের টিকিট বিক্রি চলছে
আর/


