বিজ্ঞাপন

কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ে লুটপাট: মিনিস্ট্রি অডিটের দাবি

কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ উঠায় ফুঁসে উঠেছে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও,প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সুধীমহল ।বর্তমানে এ ঘটনাটি ”টক অফ দ্যা টাউন” এ পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি নিয়ে একের পর এক অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরও প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে দুর্নীতির মাত্রা লাগামহীন হয়ে পড়ায় শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে । পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে বিদ্যালয়টির প্রধান ফটক সংলগ্ন দেয়াল ভেঙে দোকান ও গোডাউন ঘর নির্মাণ করায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশপথ সংকুচিত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে গোডাউন ঘর ও গ্যারেজ তৈরি করায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অ্যাসেম্বলি করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপর দিকে গ্যারেজ ও গোডাউনের কারণে বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বহিরাগতদের আড্ডা ঘটায় বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর অবস্থার শিকার হচ্ছে। এছাড়াও রাতের বেলায় প্রধান ফটক খোলা থাকায় বিদ্যালয়টি মাদক সেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এমনতর বেহাল অবস্থার জন্য স্থানীয় সুধীমহল বর্তমান অ্যাড হক কমিটিকে দায়ী করছেন। অভিযোগ আছে এই অ্যাড হক কমিটির একই ব্যক্তিদ্বয় বারবার যথাক্রমে সভাপতি, শিক্ষক প্রতিনিধি ও সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়ে আসছেন বিগত প্রায় তিন বছর ধরে। এখানে হচ্ছে না কোন ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন। স্বীয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই অ্যাড হক কমিটি বিদ্যালয় পরিচালনা কার্যক্রম সঠিকভাবে না করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধান অমান্য করে কোন প্রকার টেন্ডার কোটেশন ছাড়াই প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের নামে চলমান তাঁরা প্রায় দুই কোটি টাকার ভুয়া ভাউচার পাস করিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম এই প্রতিবেদক কে জানান, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা তো অপরাধ না। প্রতিষ্ঠানটি কমার্শিয়াল এলাকায় হওয়ায় আমরা খেলার মাঠে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করবো।সে কারণেই দোকান ঘর বা গোডাউন নির্মাণ করে বরাদ্দ বা ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে অর্জিত আয় প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

অ্যাড হক কমিটির সভাপতি মাহমুদার রহমান সোনা বলেন,প্রতিষ্ঠানে যত অনিয়ম হয়েছে তা
পূর্বের সভাপতি করেছেন আমরা তো উন্নয়ন করছি এতে দোষের কি ?

বিষয়টি নিয়ে সাবেক সভাপতি মোজাফফর হোসেন জানান, আমি তো তিন বছর পূর্বে দায়িত্ব ছেড়েছি। বর্তমান অ্যাড হক কমিটি যত অনিয়ম দুর্নীতি করছে সবকিছুই আমার উপর বর্তাচ্ছে। আমার নামের সীল, ভোটার আইডি ও ছবি সংরক্ষণে রেখে যখন যেখানে প্রয়োজন তা ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অন্যের স্বাক্ষর জাল করার একজন স্পেশালিস্ট রয়েছেন,তিনি তার দায়িত্ব কর্তব্য অন্যের উপর ন্যস্ত করে অনিয়ম দুর্নীতির ছক কষতে ব্যস্ত আছেন । একটি মিনিস্টারি অডিট হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে, মামা-ভাগ্নে ও বন্ধু মিলে তিন খাদক আটকা পড়বে এক খাঁচায় । তবেই রক্ষা পাবে এই প্রতিষ্ঠান।

পড়ুন- আজ ট্রেনের ২৬ মের টিকিট বিক্রি শুরু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন