বিজ্ঞাপন

সরদহ রেলস্টেশনে চলছে মাদক সেবন-বিক্রয়ের মহোৎসব

মাদকে পরিচিত চারঘাট উপজেলার সরদহ রোড রেলস্টেশনে শুক্রবারে মেতে উঠে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের উৎসব। অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গেই নেমে আসে কালো মেঘের মতো মাদকের ঝমকালো আসর। হায়নার চরিত্রের মাদক সিন্ডিকেটের কাছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও জিম্মি। তবে মাদক সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে সকল ধরনের প্রতিবাদ করেছেন চারঘাট-বাঘা৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলা সরদহ রোড রেলস্টেশনটি এক নির্জন এলাকায় অবস্থিত। ৯৬ বছর পুরাতন এই নির্জন স্টেশনে নিকটবর্তী অল্প কিছু বসতি থাকলেও বেশির ভাগ গ্রাম বেশ দূরত্বে অবস্থিত। রেল বিভাগের পরিত্যাক্ত ভবন, স্থাপনা এবং ঝোপঝাড়ের আড়ালেই চলে মাদক সেবন ও বিক্রি।

মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্কে স্থানীয়রা তাদের পরিচিতি প্রকাশ করতে ভয় পায়। ওই স্টেশনের স্টাফরাও বেশির ভাগ সময় তাদের নিজেকে গৃহ বন্দি করে রাখে। সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য সংগ্রহেও রয়েছে প্রাণ নাশের আশংঙ্কা। প্রতিদিনের শুরুতে সচারাচর লোকসমাগম থাকলেও বিকেল থেকেই লোকজন কমতে শুরু করে। শুক্রবারের আতঙ্কে বাকি ৬দিনও একই পরিস্থিতি প্রমান বহন করে চলেছে।

এই সত্যতা অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, সার্বিক পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে। বিচ্ছিন্নভাবে তরুন, যুবক ও মধ্য বয়সি লোকজন অবস্থান করছে। কৌতহলি বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে কিছু স্থানীয় তুরন স্টেশনের একটু দূরত্বে গিয়ে এই স্টেশনের ঘটনা গুলো খুলে বলে। একই ভাবে রেলস্টেশনের স্টাফদের তথ্যমতে ঘটনার সত্যতার প্রমান পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন গয়েন্দা সংস্থা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন বলেন, তারা প্রতিনিয়িত মাদক নির্মূলে কাজ করছেন। কিন্ত বিভিন্ন সচেতন মহলের তথ্যমতে জানা যায়, মাদক নিয়ন্ত্রন ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে।

মাদক ব্যবসা থেকে ফিরা আসা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কিছু লোক বলছেন, যেকোন মাদক ব্যবসা করতে হলে সকল দপ্তরের লিংক না থাকলে মাদক সেবন ও বিক্রয় করা সম্ভব না। তারা প্রমান দিয়ে বলেন, রাজশাহী জেলে ইয়াবা থেকে শুরু করে হেরোইন মতো নেশা দ্রব্য পাওয়া যায়। তাহলে জেলের বাহিরে মাদক কারবারি করা মামলি বিষয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে চারঘাট-বাঘা এমপি আবু সাইদ চাঁদ বলেন, রেলস্টেশনের বিষয়ে তিনি জানেন। অনেক সচেতন মহল এই স্টেশনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেছেন। তিনি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকেও বলেছেন। কিন্ত মাদক বন্ধ হচ্ছে না, বরং শুক্রবার হলেই মাদক নেশার উৎসব শুরু হয়। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রিন্ট ও টিভি চ্যানেলে বেশি বেশি প্রচার করে তাদের সিন্ডিকেট ফাস করে দিতে হবে।

পড়ুন- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন প্রস্তাব, চীনের তীব্র সমালোচনা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন