নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যাকান্ডের আড়াই বছর পর ঘটনার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকান্ডে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২ জন আসামীর দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। রবিবার বিকেলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আতিকুল ইসলাম ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকানদারী করতো। আলী সম্রাট তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে ধার নেয়, যা ঐ রাতেই ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। রাতে টাকা চাইতে গেলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ডোবায় ফেলে দেয় বলে জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকানদারী করার সময় আতিকুল ইসলামের দোকানের পাশের আলী সম্রাট ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে ধার নেয়। কথামত রাতে দোকান বন্ধ করে মোবাইল ফোনে আলী সম্রাটের কাছে টাকা ফেরত চায়। তাকে আলীগঞ্জ রেল লাইন বাজারে যেতে বলে। এক বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ১১ নভেম্বর সকালে আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুরের পানিতে আতিকুল ইসলামের লাশ ভাসতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা হয়। পরে পিবিআই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে কাজ শুরু করেন। গত ১৩ মে ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মো: শান্ত হোসেন (২৭)কে গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং জড়িত অন্যান্য আসামীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করে। পরে তাকে ১৩ মে আদালতে পাঠালে হত্যা দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
তার দেয়া তথ্য মতে, ১৪ মে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ আহাদ আলী(২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩), ও জাহিদ হাসান শুভ (২৫) কে গ্রেফতার করে। তাদের ১৪ মে আদালতে পাঠিয়ে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রবিবার (১৭ মে) রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠালে তাদের মধ্যে আহাদ আলী হত্যা দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পড়ুন : কাশিমপুরে নিখোঁজ শিশু ৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর


