বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট সহায়তা চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে জোরালো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিন সংস্থার কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সরকার।
অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও ঢাকায় উন্নয়ন সহযোগীদের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বাজেট ঘাটতির বিষয় তুলে ধরা হয়।
সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভার সাইডলাইনে অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আইএমএফ বাংলাদেশের চলমান ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির বাইরে অতিরিক্ত অন্তত ১.৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক থেকেও আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার আশা করছে অর্থ বিভাগ। একই সঙ্গে এডিবি বাংলাদেশকে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে। গত সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ আশ্বাস দেন। এ ছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এডিবি ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা ও ১.৪ বিলিয়ন ডলার প্রকল্প সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে অস্থির পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি ব্যয়, জ্বালানি বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। এ অবস্থায় উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে নিয়মিত ঋণের বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকার আশা করছে, আগামী জুনের মধ্যেই অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার ছাড় পাওয়া যেতে পারে।
তবে আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির অর্থ ছাড় পেতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারণ সংস্থাটি আগামী বাজেটে তাদের দেওয়া শর্ত ও সংস্কার প্রস্তাব কতটা প্রতিফলিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পুরো অর্থনীতিই বর্তমানে ঘাটতির চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতি নতুন চাপ তৈরি করেছে। আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছি। তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।’
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এই ৩ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়া গেলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপও কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পড়ুন:বিশ্বে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে জ্বালানি তেল, মজুত মাত্র কয়েক সপ্তাহের
দেখুন:ঝালকাঠিতে লাশের খাটিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় আহত ৬
ইমি/


