বিজ্ঞাপন

রাশিয়ায় ভয়াবহ হামলা, একের পর এক তেল শোধনাগারে আগুন

সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় মধ্যাঞ্চলের প্রায় সব প্রধান তেল শোধনাগারে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। ইতিমধ্যেই এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গ্যাসোলিন রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি। জানা গেছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার। দেশটির বুধবার (২০ মে) রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

যেসব শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৮৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি বা দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তথ্য ও সূত্র অনুযায়ী, এটি রাশিয়ার মোট শোধনাগার ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে এই শোধনাগারগুলোর সম্মিলিত অংশ গ্যাসোলিনের জন্য ৩০ শতাংশের বেশি এবং ডিজেলের জন্য প্রায় ২৫ শতাংশ। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় কোনো উত্তর দেয়নি। রুশ কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা বিভিন্ন পোস্ট অনুসারে, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে এবং বছরের শুরু থেকে দ্বিগুণ তেল শোধনাগার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এই হামলায় পাইপলাইন এবং সংরক্ষণাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা রাশিয়ার তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর রাশিয়া বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। এর ফলে মস্কোর ফেডারেল বাজেটের ওপর চাপ বেড়েছে, যেখানে মোট রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে তেল ও গ্যাসের কর থেকে।

লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেল শোধনাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম রাশিয়ার কিরিশি, মস্কো তেল শোধনাগার এবং ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত নিজনি নোভগোরোদ, রিয়াজান ও ইয়ারোস্লাভলের প্ল্যান্টগুলো। সূত্রমতে, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শোধনাগার কিরিশি, যার উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ২ কোটি মেট্রিক টন। গত ৫ মে থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে স্থাপনাটি।

বার্ষিক ১৭ মিলিয়ন টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি প্রধান তেল শোধনাগার, নিজহেগোরোদনেফতেওর্গসিনতেজ (নোরসি), বুধবার (২০ মে) হামলার শিকার হয়েছে। হামলার পর নোরসি কার্যক্রম চালু রাখতে পেরেছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : হরমুজে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত আরোপ করল ইরান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন