বিজ্ঞাপন

আখাউড়ার হাট কাঁপাচ্ছে ‘রাজাবাবু’

হাটজুড়ে মানুষের ভিড়। কোথাও দরদামের উত্তাপ, কোথাও গরুর দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে বিক্রেতার অপেক্ষা। শত শত গরুর ভিড়ে হঠাৎ করেই চোখ আটকে যায় এক কালো দেহী বিশাল গরুর দিকে। তার চলনে যেন দাপট, দাঁড়িয়ে থাকাতেই যেন রাজকীয় ভঙ্গি। আর তাই মালিকও নাম রেখেছেন—‘রাজাবাবু’।

বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শুক্রবার আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠের বিশেষ পশুর হাটে তোলা হয় গরুটিকে। হাটে আসা মানুষের ভিড়ের বড় একটি অংশকে দেখা যায় ‘রাজাবাবু’কে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ হাত বুলিয়ে দেখছেন, আবার কেউ দাম শুনে বিস্ময় লুকোচ্ছেন।

গরুটির মালিক পৌরশহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা রুহুল আমীন। তিনি জানান, ‘রাজাবাবু’ নেপালি-সাহিওয়াল সংকর জাতের গরু। প্রায় দুই বছর ধরে যত্ন করে বড় করেছেন তিনি। গরুটির লাইভ ওয়েট প্রায় ৫৬০ কেজি। দাম হাঁকিয়েছেন সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর উঠেছে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

রুহুল আমীন বলেন, “গরুটাকে নিজের সন্তানের মতো করে লালন করেছি। নিয়মিত ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা আর উন্নত খাবার দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি।”

হাটজুড়ে সকাল থেকেই ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ পশুর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করছেন, কেউ আবার দরদামে ব্যস্ত। ছোট আকারের গরু থেকে শুরু করে বিশালাকৃতির দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরু উঠেছে হাটে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার পশুর সরবরাহ ভালো হলেও খাবার ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম অনেকটাই চড়া। তবে পছন্দের পশু কিনতে আগ্রহের কমতি নেই কারও।

হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমান চৌধুরী বলেন, “এবার হাটে পর্যাপ্ত পশু এসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “হাটে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল রয়েছে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।”

সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আখাউড়ার পশুর হাট। আর সেই হাটের সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন—‘রাজাবাবু’।

পড়ুন- ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন