চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলো এখন গরু, মহিষ, খাসি ও ভেড়ায় ঠাসা। বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে নগরী ও উপজেলার হাটগুলোতে। স্থানীয়ভাবে পশুর উৎপাদন কিছুটা কম হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক গরু আসায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে ৮ লাখের বেশি পশু কোরবানি হতে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ইতোমধ্যে গ্রামের হাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। খামারি, গৃহস্থ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোরবানির গরু ও মহিষ কিনছেন ক্রেতারা। অনলাইনেও চলছে পশু বিক্রি। তবে নগরীর বড় হাটগুলোতে এখনও পুরোপুরি জমেনি কেনাবেচা। ক্রেতারা বাজার ঘুরে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন। ব্যবসায়ীদের আশা, শুক্রবার থেকে বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়বে।
এবার বাজারে দেশি গরুর সরবরাহই বেশি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের খামার ও কৃষকের ঘরে লালিত-পালিত গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে পশুখাদ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পশুর দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি।
চট্টগ্রাম নগরীতে স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে রয়েছে সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাকলিয়ার নূর নগর হাউজিংয়ে কর্ণফুলী পশুর বাজার, পতেঙ্গার টিএসপি মাঠ, বড়পোল, ওয়াজেদিয়া মোড়, আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ, চৌধুরীহাট, হালিশহর, মাদারবাড়ি, অলংকারসহ বিভিন্ন এলাকা। পাশাপাশি জেলার ১৫টি উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় আড়াই শতাধিক পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা চলছে।
অনেক ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু এনে অস্থায়ী খামার গড়ে তুলেছেন। কয়েক মাস ধরে মোটাতাজা করে এসব পশু এখন বাজারে তোলা হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে রংপুর, কুষ্টিয়া ও পার্বত্য অঞ্চল থেকে গরু এনে বিক্রি করছেন। বাজারে গরুর পাশাপাশি মহিষ, খাসি ও ভেড়ারও ভালো সরবরাহ রয়েছে।
গত কয়েক বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামের বাজারে ভারতীয় গরু নেই। অন্যদিকে আরাকান আর্মির তৎপরতার কারণে মিয়ানমার থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গরু আসেনি। ফলে পুরো বাজার এখন দেশি পশুর দখলে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর স্থানীয়ভাবে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি পশু। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ হাজার ৫৩৪টি কম। এছাড়া ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার উৎপাদনও কমেছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক খামারি পশু পালন কমিয়ে দিয়েছেন। তবুও আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে পশু আসায় কোরবানিতে কোনো সংকট হবে না।
এদিকে কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জাল টাকা, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির অপতৎপরতা ঠেকাতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। হাটের ইজারাদাররাও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করেছেন।


