গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫১২ জনে।
সামনে বাড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ আর কয়েকদিন পরেই আসছে ঈদুল আজহা। এই ঈদকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই বাড়বে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক যাতায়াত। ঈদ উদযাপনে পরিবারের সদস্যরা সংস্পর্শে আসবে একে অপরের। তবে একে অপরের এই কাছে আসাতেই হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে হাম উপসর্গে ১২ ও নিশ্চিত হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু।
শনিবার (২৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৫১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৬ শিশুর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪২৬ শিশু।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব। এরপরে বাড়তে রোগীর সংখ্যা। একইসাথে বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। এরপরে কিছুটা তুলনামূলক কিছুটা কমতে শুরু করে রোগীর সংখ্যা। আবার যারা আসেন তারাও জরুরি চিকিৎসা নিয়ে চলে যেতে পেরেছেন বাড়িতে। তবে এখন আবার বাড়ছে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের হাম বিভাগে দায়িত্বরতরা।
হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে কিনা জানতে চাইলে দায়িত্বরত নার্স বলেন, আমাদের এখানে সারাক্ষণই রোগী আসতে থাকে। আমার দেখা অনুযায়ী বলতে পারি যে রোগী আগের তুলনায় আসা কমেছে, এটা আমার দেখা অনুযায়ী বলছি। তবে রোগী কমলেও খারাপের অবস্থাটা বেড়েছে। আগে দেখা যেত যে অনেক রোগী এসেছে আমরা তাদের ইমার্জেন্সিতে দেখে বাসায় ট্রিটমেন্ট করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি। এরকম হয়েছে। কিন্তু এখন যেটা হয়েছে যে এডমিশন লাগেই।
হামে আক্রান্ত হওয়া সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে দিনের পর দিন কাটাচ্ছে বাবা-মায়েরা। চলছে চিকিৎসা। কিন্তু তবুও অভিভাবকদের মনে থেকেই যাচ্ছে আতংক। কবে সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন আছেন সেই অপেক্ষায়।
তবে আসছে ঈদের ছুটিতে এই আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা আরও বেড়ে যাওয়া আশংকা করছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ফলে এই ছুটিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

