চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পৃথক দুই ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত এবং সমুদ্রে নিখোঁজ এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) রাতে থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ও গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে এসব ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরের ৫ নম্বর ছিন্নমূল সমাজ এলাকায় ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র ছুরিকাঘাতে পিতা নুরু উল্লাহ (৬৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত নুরু উল্লাহর বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পিতা-পুত্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল্লাহকে আটক করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, একইদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে মো. রিফাত শেখ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হন। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার মোহাম্মদ খায়রুল শেখের ছেলে এবং গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সহপাঠীদের নিয়ে কুমিল্লা থেকে বেড়াতে এসে রিফাতসহ পাঁচজন সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে তারা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রিফাত নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে অন্ধকার নেমে আসায় অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
রোববার সকাল ১১টার দিকে আগ্রাবাদ থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন খাল থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


