মেহেরপুরে ১১ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলায় শাকিল হোসেন নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের জেল দিয়েছে আদালত। আজ রবিবার দিকে মেহেরপুর জনাকীর্ণ আদালতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মেহেরপুরের বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম (জেলাও দায়রা জজ) এ রায় দেন।
মামলার বিবরণী জানা যায়, মামলার বিবরনে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইছানুল হকের ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যা তার পিতার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাওয়ার পথে শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে ডেকে পাট খেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওই সময় মাঠে কাজ করা লোকজন শিশুর কন্যার কান্নাকাটি শুনে এগিয়ে গেলে ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে দুপুরের দিকে এলাকাবাসী শাকিলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে ওই শিশুর পিতা ইছানুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০২৬। এর ৯(১) ধারা একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং গাংনী থানা মামলা নং ১৯।
তারিখ ১৬/৬/২০২৫। শিশু সহিংসতা দমন মামলা নং৩৬/২০২৬।জি আর কেস নং ১৮২/২৫।পরে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট করেন। মামলাটি মাত্র ২৯ কার্যদিবসে নিষ্পত্তি ঘটানো হয়। এবং দ্রুত রায় সম্পাদনের লক্ষ্যে দূরের সাক্ষীদের ভার্চুয়াল সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের সাক্ষে আসামী শাকিল হোসেন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬, ২০০৩)। এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়,সেহেতু ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ধর্ষণ করার অপরাধে শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। আসামির গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ঝুলিয়ে রাখার রায় প্রদান করা হয়। একই সাথে আসামিকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছর শশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামি শাকিল হোসেনের প্রতি আরোপিত অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। উক্ত ক্ষতিপূরণের টাকা আসামি শাকিল হোসেনের বর্তমান সম্পত্তি হতে আদায় করা সম্ভব না হলে তিনি ভবিষ্যতের সম্পদের মালিক বা অধিকারী হবেন সে সম্পদ থেকে আদায়যোগ্য হবে এবং এক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের উপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাবে। মামলা রাষ্ট্রপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন কৌশলী ছিলেন।


