মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণার পর এবার তেহরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে।
স্পর্শকাতর এই কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
যদিও ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো দেওয়া হয়নি, তবে রোববার (২৪ মে) ভোরে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, ইরান মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির মাধ্যমে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে শক্ত অবস্থান থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর এই মন্তব্যকে দুই দেশের চলমান সংকট নিরসন এবং একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে এগোনোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সমঝোতার খসড়া শর্ত অনুযায়ী, ইরান সরকার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে কোনো প্রকার শুল্ক বা ফি ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার শর্তও রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত চলছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে যেখানে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছিল, সেখানে তেহরান দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল। একদিকে তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল। শনিবার (২৩ মে) পরবর্তী পরিস্থিতির পর স্পষ্ট হচ্ছে, যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক পথই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি কেবল যুদ্ধবিরতি ও জলপথ খুলে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনবে—তা এখনো অনিশ্চিত।
পড়ুন: ৭ দিনের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আর/


