টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নে স্বামী ও চার বছরের সন্তান রেখে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর এক গৃহবধূর বিয়েকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রেমিককে বিয়ে করেছেন ওই গৃহবধূ।
জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ফারুকের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী সানজিদার সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াজান গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে সাব্বিরের প্রায় চার বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ফারুক দেশে ফেরেন। এরপর গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সানজিদা পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, টানা পাঁচ দিন অবস্থানের পর গত রোববার (২৪ মে) স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর ও রাজনৈতিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে সাব্বিরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এ সময় বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সফি সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জামান মিয়া, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আক্কাছ, ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা আবদুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাঁশতৈল কাজী অফিসের কাজী বেলায়েত হোসেনকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে ৮ লাখ ১ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে পড়ানো হয় বলে জানা গেছে। কাবিনের মধ্যে নগদ ১ হাজার টাকা উসুল দেখানো হয়েছে।
এদিকে তালাকের কাগজে নাম, ঠিকানা ও তারিখ পূরণ ছাড়াই স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমি তালাকনামা প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। সেখানে সানজিদা ও দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, বাকি অংশ পরে পূরণ করা হবে।”
সানজিদার বাবা সামুদ্দিন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কাজী অফিস সমিতির সভাপতি কাজী হাসেম বলেন, “তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খালি কাগজ বা অসম্পূর্ণ তালাকপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে পরে তথ্য পূরণ করে তালাক কার্যকর করার সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তালাক সম্পন্ন করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। কারও অজ্ঞাতে বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে তালাক কার্যকর করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”
বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সফি সিকদার বলেন, “আমিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈধভাবেই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন?”
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন: ঈদুল আজহা: টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু
আর/


