বিজ্ঞাপন

ভিজিএফ কার্ড না পেয়ে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম খোকনকে মোবাইল ফোনে ও প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অপমান এবং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে লটকিয়ে রাখার হুমকিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকারের (সোহাগ) বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৫ মে রাতে পূর্বধলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যান।

দুজনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, অভিযুক্ত সোহাগ সরকার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খোকনকে ফোন করে ভিজিএফ কার্ডের বিষয়ে জানতে চান। চেয়ারম্যান কার্ডগুলো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি বা পরিবেশ নেই বলে জানালে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সোহাগ।

টেলিফোনে সোহাগ অত্যন্ত আপত্তিকর ও অকথ্য ভাষায় (মাদারচোদ, কুত্তার বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা ইত্যাদি বলে) চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ শুরু করেন।

দুজনের কথোপকথনে সোহাগ প্রথমে বলেন- হ্যাঁ, হ্যালো। উত্তরে খোকন বলেন- হ্যাঁ। সোহাগ: কে? খোকন নাকি? খোকন: হ্যাঁ? সোহাগ: খোকন ভাই? খোকন: হ্যাঁ সোহাগ: আমি সোহাগ বলছিলাম। খোকন: হুম। সোহাগ: আচ্ছা আপনি ইয়ে, আমাদের যে কার্ডগুলা ৪১৫টা কার্ড, এই কার্ডগুলা কি দিছেন? খোকন: না। সোহাগ: এইগুলা দেন নাই কেন? খোকন: হ্যালো। সোহাগ: হ্যাঁ, এই কার্ডগুলা দিছেন না কেন? খোকন: কার্ডগুলো দেওয়ার তো কোন ইয়ে হইছে না, পরিবেশ নাই। সোহাগ: কিরকম পরিবেশ নাই? খোকন: পরিবেশ নাই, বলে নাই কিচ্ছু।

এ রকম কথা চলাকালীন একপর্যায়ে সোহাগ চেয়ারম্যানকে বলেন- কে বলছে না? এই মাদারচোদ! এই তোরে যে আমি ফোন দেই, কুত্তার বাচ্চা! তোরে লটকায়ে, শুয়োরের বাচ্চা, এইডার পরে… তুই যে আমাগো কার্ড দিসস না, তোর কত বড় সাহস তুই! মাদারচোদ! তুই আমারে চিনস রে, এই কুত্তার বাচ্চা? তোরে যে এতডি ফোন দেই! তুই শহীদুল্লাহ এমরানরে কার্ড দেস না, তুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানি করস? তোরে যদি আমি না লটকাইছি ইউনিয়নের সামনে! শুয়োরের বাচ্চা! তুই আমারে চিনস না।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যান খোকনের থানায় জিডি সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা আফতাব উদ্দিন সরকার (সোহাগ) দীর্ঘদিন ধরে হোগলা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বাধা প্রদানসহ নানাবিধ অনৈতিক সুবিধা দাবি করে আসছিলেন।

প্রথম ঘটনা (প্রকাশ্যে পথরোধ ও হুমকি): গত ২৪ মে (রবিবার) সকাল কাল আনুমানিক ১০টার দিকে কালিরহরকান্দা পাকা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মহিষাউড়া ব্রিজের ওপর চেয়ারম্যানের পথরোধ করেন সোহাগ। সেখানে তিনি অনৈতিকভাবে ৪৫০টি ভিজিএফ কার্ড তার নামে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। চেয়ারম্যান রাজি না হওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে চলে যান।

দ্বিতীয় ঘটনা (ফোনে হুমকি): একই দিন অর্থাৎ গত রবিবার দিনগত রাত ১১:২৮ ঘটিকায় সোহাগ তার মোবাইল নম্বর থেকে চেয়ারম্যানের নম্বরে কল করে পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি ও চরম অপমানজনক গালিগালাজ করেন।

কথোপকথনে অডিও ক্লিপে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ এস এম শহীদুল্লাহ ইমরানের নাম উঠে আসে। তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রতিবেদক গত সোমবার রাত ও আজ (মঙ্গলবার) একাধিকবার মোবাইল কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা আফতাব উদ্দিন সরকারের (সোহাগ) মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত সোহাগ বর্তমানে দলের কোন পদপদবীতে নেই। যার ফলে দলের ভাবমুর্তি নষ্টকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন সংগঠনিক ব্যবস্থাও নিতে পারছি না।

পড়ুন:জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

দেখুন:পাটুরিয়া ঘাটে পারাপারের টিকেট না পেয়ে হতাশ ট্রাক চালকরা | 

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন