চট্টগ্রামের ও উপজেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও এক যুবকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার রাত ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ জিহান (১৩) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের বিস্কুট ফ্যাক্টরির পশ্চিম পাশে কালামিয়া সারাংয়ের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহান খোরশেদ আলমের কনিষ্ঠ ছেলে এবং -এর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী জানান, ঘরের মোটরের বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় জিহান। পরে তাকে উদ্ধার করে -এ নেওয়া হলে রাত ১ টা দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির গরু কিনে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন নাছির উদ্দীন নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
সোমবার উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের পাইলন ইন্ডাস্ট্রিজ এলাকার সামনে রাত ১১ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকা রাস্তার মাথা এলাকায় ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস মাঠে বসা পশুর হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি ফিরছিলেন নাছির উদ্দীন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত নাছির উদ্দীন ওভারব্রিজ ফকিরহাট এলাকার পশ্চিমে কালাগাজীর বাড়ির বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি সলিমপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় -এ কাজ করার সময় মেশিনে ঢুকে মোহাম্মদ রাসেল (১৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত রাসেল একই এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের একমাত্র ছেলে।
জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে টাকা জমানোর জন্য ইলেকট্রিকের কাজের পাশাপাশি কয়েকদিন ধরে রাতে ফিড মিলে কাজ করছিল রাসেল। সোমবার গভীর রাতে কাজ করার সময় হঠাৎ ফিড মিলের ভুট্টা রাখার সাইলোতে ঢুকে যায় সে। পরে সহকর্মীরা উদ্ধার করে মস্তাননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাব্বি জানান, “রাসেল আর আমি একসঙ্গে কাজ করছিলাম। হঠাৎ সে সাইলোর ভেতরে ডেবে যায়। আমি তুলতে চেষ্টা করেও পারিনি। পরে অন্যদের খবর দিলে সবাই মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
নাহার এগ্রো ফিড মিলের ম্যানেজার মো. ফাহিম উদ্দিন বলেন, রাতে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় একজন শ্রমিক মেশিনে আটকে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ধারণা করা হচ্ছে মেশিনের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে রাসেলের মৃত্যু হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে পৃথক তিনটি মর্মান্তিক ঘটনায় দুই উপজেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পকারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও নতুন করে সামনে এসেছে।
পড়ুন:জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু
দেখুন:পাটুরিয়া ঘাটে পারাপারের টিকেট না পেয়ে হতাশ ট্রাক চালকরা |
ইমি/


