ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া নেত্রকোনার সেই মনোয়ারা বেগমের (৫৯) পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। ডেপুটি স্পিকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত নতুন পাকা ঘর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন চমৎকার উপহার পেয়ে আনন্দে ও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন নিঃস্ব এই নারী।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের বড়খাপন গ্রামে মনোয়ারা বেগমের নিজ ভিটায় অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ঘরের চাবি তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল নেত্রকোনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ৫৯ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমের একমাত্র বসতঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। বহু বছর আগে স্বামীকে হারানো এই নারী পাঁচ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার একমাত্র পুত্র সন্তানকেও হারান। ঝড়ে শেষ সম্বল ঘরটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি।
মনোয়ারা বেগমের এই চরম দুর্দিনের কথা গত ২৮ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুর রশিদ। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে তা নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মনোয়ারা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি হস্তান্তর করা হলো, যা মনোয়ারা বেগমের কাছে পরম পাওয়া ও ঈদের সেরা উপহার হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আবেগঘন কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম বলেন, “ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাব, তা বুঝতে পারছিলাম না। বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার কেউ ছিল না। মাননীয় ডেপুটি স্পিকার মহোদয় আমার দুঃখ বুঝে আমাকে নতুন ঘর করে দিয়েছেন। আমি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করি।”
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। চাবি হস্তান্তর শেষে মনোয়ারা বেগমের সুখ-শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ডেপুটি স্পিকারের মহতী এই উদ্যোগের তীব্র প্রশংসা করে বলেন, একজন অসহায় ও স্বজনহারা নারীর পাশে দাঁড়িয়ে ডেপুটি স্পিকার যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সমাজের বিত্তবানদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
পড়ুন:জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু
দেখুন:পাটুরিয়া ঘাটে পারাপারের টিকেট না পেয়ে হতাশ ট্রাক চালকরা |
ইমি/


