কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নৌরুটে প্রায় ৩০০ যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাটুরিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের আরসিএল মোড় ছাড়িয়ে যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। শতাধিক বাস ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ৫০ থেকে ৭০টি ছোট গাড়ি এবং প্রায় ৫০টি ট্রাক সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে সাধারণ যাত্রীরা ঘাটে এসে ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফেরিতে উঠতে পারছেন।
রাজবাড়ী উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আউয়াল নামের এক যাত্রী জানান, চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের বাস ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘাটে এসে শুনি ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফেরি বন্ধ ছিল। পরে চালু হলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
পরিবহন চালক হালিম মিয়া বলেন, “দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ঘাটে এসেছি। চার ঘণ্টা পার হলেও এখনো ফেরিতে উঠতে পারিনি। অন্য সময়ের তুলনায় আজ কিছুটা বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।”
ফরিদপুরগামী জীবন রহমান বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পর ঈদে এই নৌরুটে তেমন সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার পরিবার নিয়ে ঘাটে এসে সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বর্তমানে নৌরুটে ১৭টির মধ্যে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। তবে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শতাধিক বাস, ছোট গাড়ি ও ট্রাক ঘাট এলাকায় আটকে পড়ে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সালাম হোসেন জানান, “বিগত বছরের তুলনায় এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় না। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সিরিয়াল অনুযায়ী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
দেখুনঃখানা-খন্দে দুর্ভোগ, সড়ক সংস্কার করলেন ছাত্রদল সম্পাদক নাছির
পড়ুনঃইরানের খেলায় বেকায়দায় যুক্তরাষ্ট্র
ইমি/


