বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন চৈতি নীট কম্পোজিট নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদযাত্রার ঘরমুখো মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা চালালে শ্রমিকরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে এক পর্যায়ে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর দেড়টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার টিপুরদি এলাকা সংলগ্ন চৈত্র নীট কম্পোজিট নামে পোশাক কারখানাটির সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন ওই কারখানার শ্রমিকরা। বেতন বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে মহাসড়কের টিপুরদি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চালায়। তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক ছাড়তে না চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, মে মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস ঈদের ছুটির আগে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েও বেতন বোনাস পরিশোধ করেননি। কারখানার মালিকপক্ষ পুরো বেতন দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শ্রমিকদের মধ্য ক্ষোভ সৃষ্টি হলে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে দুপুর থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে সড়কের একটি লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে মালিকপক্ষের লোকজনও ছিলেন। পরে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী সময় সংবাদকে বলেন, শ্রমিকরা চলতি মাসের পুরো বেতন এবং অর্জিত ছুটির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে জেলা পুলিশ ১ রাউন্ড ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ৩ রাউন্ড মোট ৪ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছুঁড়লে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা পুলিশের এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনাস্থলে আমি, এসপি স্যারসহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ছিলেন। পরে আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। মালিকপক্ষ ৩ তারিখের মধ্যে অর্জিত ছুটি পরিশোধ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দেখুনঃকয়রায় কোরবানির পশু বহনকারী নসিমন উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

পড়ুনঃইরানের খেলায় বেকায়দায় যুক্তরাষ্ট্র

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন