বিজ্ঞাপন

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় ৪৪ জনের নামে মামলা অজ্ঞাত আসামি ৩০০

চট্টগ্রামের উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানা বাদী হয়ে -এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনসহ ৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে আটক পাঁচজনকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর এবং খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মামলার অধিকাংশ আসামি ইয়াছিন গ্রুপের সদস্য।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মনির হোসেন, বাকের হোসেন, সাইফুল কুদ্দুস, জামাল হোসেন ও দিদার হোসেন। তাদের সবার বাড়ি জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। হামলার আগে অন্তত চারটি স্থানে খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তা কেটে দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকায় একাধিক পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করে এরপর এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।তারা বলেন, “ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে ইয়াছিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় -এর ডিএডি মোতালেব হোসেন নিহত হন। পরে ৯ মার্চ যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছিল র‍্যাব। আরো বলেন, “ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত।”
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার একটি প্রভাব বলয় ছিল। সেটি হাতছাড়া হওয়ায় সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ লিংক রোড থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় যেতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাড়ে তিন হাজার একরেরও বেশি খাসজমি নিয়ন্ত্রণ করত সশস্ত্র বাহিনীটি। ইয়াছিন বাহিনীর অনুমতি ছাড়া সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশও কঠিন ছিল।

বিজ্ঞাপন

দেখুনঃকয়রায় কোরবানির পশু বহনকারী নসিমন উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

পড়ুনঃইরানের খেলায় বেকায়দায় যুক্তরাষ্ট্র

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন