বিজ্ঞাপন

দেবীগঞ্জে মামলা থেকে ভাই ও স্বজনদের বাঁচাতে ডিএসবি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে, ইউপি সদস্য উমাপদ রায়ের নেতৃত্বে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন জেলা পুলিশের ডিএসবি শাখার কনস্টেবল ফরিদুল ইসলাম।এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্য দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন৷পরে ইউপি সদস্য উমাপদ রায় তার ভাই ও স্বজনদের অপরাধ ঢাকতে ওই ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলামের সাথে আপোষ করার নাটক সাজিয়ে উল্টো পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে রহস্যজনক পুলিশ সদস্যের মামলায় ৪ দিনেও আসামী আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ।

দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য উমাপদ রায় তার অভিযোগে জানা যায়, এ ঘটনায় সমঝোতা করার চেষ্টা করেন দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে। ৩৭ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকি টাকা ৫ দিনের মধ্যে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরেও ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম মামলা দেওয়ার কারনে তারা ২৪ মে পাল্টা অভিযোগ দেন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।

ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর গাড়ি ভাংচুর করছিল।তাদের ছবি তোলায় আমাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ২২ মে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করি। এরপর তারা আমার বিষয়ে ইউপি সদস্য উমাপদ রায় পুলিশ সুপারের কাছে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হয়।

জানা যায়,মামলার পর মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলামকে দেবীগঞ্জ থেকে ক্লোজ করে পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিএসবি সদস্যের করা মামলার ১ নম্বর আসামী সন্তোষ রায় ইউপি সদস্য উমাপদের ভাই, তার ভাতিজা সুমন রায়,আত্মীয় খগেশ্বর চন্দ্র রায়, মিলন রায়সহ আরো একাধিক ব্যক্তি। স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের ২নং ওয়ার্ড সভাপতি উমাপদ রায়ের ভাই সন্তোষ রায় ভাতিজা সুমন, মিলন স্থানীয় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত, তারা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখে। তাদের নেতৃত্বে ট্রাকে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে ডিএসবি সদস্যের উপরে হামলা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯ মে পাপরী রানী নামের ছয় বছরের শিশু ট্রাক চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাকটি আটক করে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে। পুরো ঘটনা পুলিশের ডিএসবি শাখার কনস্টেবল ফরিদুল ইসলাম দুর থেকে ভিডিও করে। ছবি তোলার কারনে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে মোবাইল, টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজ নিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ইউপি সদস্য উমাপদ রায় জানান,ঘটনার দিন ডিএসবি সদস্য ও স্থানীয়রা তর্কে জরিয়ে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়।পরে ডিএসবি সদস্য মামলা না করার শর্তে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমরা দিতে রাজি হয়ে ৩৭ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা দিতে সময় নেই।কিন্তু তার আগেই মামলা করার কারনে আমি অভিযোগ দিয়েছি।আপোষে কে কে ছিল এবং কোন ডকুমেন্ট আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন,চেয়ারম্যানসহ আমি টাকা দিয়েছি কোন ডকুমেন্ট করা হয়নি।

দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক ডিএসবি সদস্যের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ মামলাটি ডিবিকে তদন্তের জন্য দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বৃষ্টি-কাঁদা উপেক্ষা করে জমে উঠেছে মির্জাপুরের দেওহাটা গরুর হাট

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন