বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ব্রাজিলের জাদুকরি ও ছন্দময় ফুটবল দেখতে চান বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক কায়সার হামিদ। তাঁর প্রত্যাশা, ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দেশ ব্রাজিল আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তি ও সৌন্দর্য নিয়ে ফিরুক, ফাইনালে খেলুক, শিরোপাও জিতুক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গোলখার গ্রামে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কায়সার হামিদ। গ্রামের মিয়া বাড়িতে মাহবুব আলমের বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটান তিনি।
শৈশব থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, “ব্রাজিল ছন্দময় ফুটবল খেলে। ছোটবেলা থেকেই তাদের সমর্থন করি। চাই তারা বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলুক, কাপ নিয়ে আসুক। তারা চ্যাম্পিয়ন হোক বা না হোক, প্রতিবার নতুন টেকনিক নিয়ে আসে—এটাই সবচেয়ে ভালো লাগে।”
বিশ্বকাপকে নতুন তারকার আবির্ভাবের মঞ্চ বলেও মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, “প্রতি বিশ্বকাপেই নতুন তারকা উঠে আসে। মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পেদের খেলা উপভোগ করি। এবারও নতুন কেউ আলো ছড়াবে বলে মনে হয়। তবে কোন দল চমক দেখাবে, তা এখনই বলা কঠিন।”
বাংলাদেশের ফুটবল প্রসঙ্গে কায়সার হামিদ বলেন, বিশ্বকাপ এলেই দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়তে দেখা যায়, যা এ দেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, “ফুটবল আমাদের দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। সাম্প্রতিক সময়ে র্যাঙ্কিংয়েও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। হামজা চৌধুরীর মতো খেলোয়াড় আসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।”
তবে দেশের ফুটবল নিয়ে আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। কায়সার হামিদের মতে, পরিকল্পনার অভাবই বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, “একটি জেলার সমান দেশও বিশ্বকাপে খেলে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশও খেলে। কিন্তু আমরা এখনো পারিনি। গ্রামের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে হবে, বয়সভিত্তিক ফুটবলে জোর দিতে হবে। শুধু বিদেশি কোচ এনে লাভ হবে না। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে বাংলাদেশও একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।”
গোলখার গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা কায়সার হামিদকে স্বাগত জানান। ভালোবাসার স্মারক হিসেবে তাঁকে একটি ফুটবল উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ড. শফিকুল ইসলাম, আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধরখার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ হুমায়ুন কবির জীবন, ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফুটবলার কায়সার হামিদকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তাঁকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।”


