দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের চিরন্তন কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে বাজিতপুর সাধারণ গ্রন্থাগারে ‘মানুষ নজরুল ও নজরুল মানস’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুলে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম মাস্টার।
মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নজরুল বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জাকীর হোসেন। তিনি তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে কবি নজরুলের জীবন, সাহিত্যকর্ম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের নানা দিক তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মনোজ কান্তি রায়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, বাজিতপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ দাস, পাবনার সাঁথিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম শওকত আলী খান, হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান, নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক শিক্ষক ভূপেন্দ চন্দ্র দাস, বাজিতপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক ফারুক আহমেদ, এমাদ উদ্দিন, সোহাগ, দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার মোবারক আজাদ, সাংবাদিক রকিকুল ইসলাম, শিল্পী বণিক, রাতুল হরিৎ, মোহাম্মদ আযম প্রমুখ।
এছাড়া বাজিতপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও সুধীজনদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে করে তোলে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপণী বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস. এ. খান নোমান। সঞ্চালনা করেন বাজিতপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক অঞ্জুমান আরা ক্যামি।
বিশেষ করে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডা. এস. এ. খান নোমান নজরুলের কালজয়ী ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করেন এবং তাঁর আবেগঘন পরিবেশনা শ্রোতাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
বাজিতপুর সাধারণ গ্রন্থাগারের পাঠকবৃন্দের আয়োজনে এ আলোচনা সভায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. এস. এ. খান নোমান। সহযোগিতায় ছিলেন সাংবাদিক মো. ফারুক ও ফুল ফারছু পাঠাগারের কো-অর্ডিনেটর এম আর রাজিব ও সাব্বির।
আলোচনা সভা যেন বাজিতপুরের কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও সুধীজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়।
উপস্থিতির অনেকের মন্তব্য দীর্ঘদিন পর বাজিতপুরে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আমরা একত্রিত হতে পেরেছি, যা আমাদের ঈদের আনন্দকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

