বিজ্ঞাপন

আইপিএলের ফাইনালে আজ সন্ধ্যায় ব্যাঙ্গালুরু মুখোমুখি হচ্ছে গুজরাটের

আইপিএল ২০২৬-র ফাইনালে আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু মুখোমুখি হচ্ছে গুজরাট টাইটানসের। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

গত বছর এই মাঠেই পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি) – ট্রফির জন্য তাদের ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছিল সেবারই।

আজ ফাইনালে জিততে পারলে আরসিবি টানা দু’বছর আইপিএল খেতাব জিতবে – যে কৃতিত্ব মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর চেন্নাই সুপার কিংস ছাড়া আর কোনো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির নেই।

এবারের লীগ টেবিলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু আর গুজরাট টাইটানস দুটো দলই ১৮ পয়েন্টে শেষ করেছিল – কিন্তু নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় আরসিবি শীর্ষে থেকে শেষ করে।

এরপর ধরমশালায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে তারা ৯২ রানের বিরাট ব্যবধানে গুজরাট টাইটানসকে হারিয়ে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে নেয়।

পরে নিউ চন্ডীগড় স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৯শে মে) রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে গুজরাট টাইটানসও ফাইনালে ওঠে। সেই ম্যাচে গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিলের ৫৩ বলে ১০৪ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসই দু’দলের পার্থক্য গড়ে দেয়।

শুভমান গিল ও গুজরাট দলে তার সঙ্গী ওপেনার সাই সুদর্শন দুজনেই এই সিজনে খুব ভাল ফর্মে আছেন। গিল মোট ৭২২ রান করে ও সুদর্শন ৭১০ রান করে দুজনেই সবোর্চ্চ রান সংগ্রহকারী বা ‘অরেঞ্জ ক্যাপে’র দৌড়েও আছেন।

গুজরাট দলের বোলিং-এর অন্যতম স্তম্ভ কাগিসো রাবাদা-ও ২৮ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট বা ‘পার্পল ক্যাপে’র দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

ঠিক তার পেছনেই রয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ভুবনেশ্বর কুমার, ফাইনালের আগে পর্যন্ত তার ঝুলিতে রয়েছে ২৬টি উইকেট।

অন্যদিকে বিরাট কোহলি, দেবদত পাডিক্কাল, ক্যাপ্টেন রজত পাতিদার, ফিল সল্ট, টিম ডেভিড ও ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে নিয়ে গঠিত আরসিবি-র ঝোড়ো ব্যাটিং লাইন-আপ গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে।

ফাইনালে তার দলকে তুলতে পারেননি, কিন্তু আইপিএলের এই ১৯তম সিজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক বিস্ময় বালকের জন্যই – যার নাম বৈভব সুরিয়াবংশী।

রাজস্থান রয়্যালসের এই ব্যাটার গোটা টুর্নামেন্টে মোট ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ পাওয়ার দৌড়েও এগিয়ে আছেন। ফাইনাল গিল বা সাই সুদর্শন তাকে টপকে না গেলে এই খেতাবও সুরিয়াবংশীর দখলেই আসবে।

টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরে ক্রিস গেইলের রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি।

সবচেয়ে বড় কথা, তার এই ৭৭৬ রান এসেছে অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে – যা থেকে বোঝা যায় কী অসম্ভব মারকুটে স্টাইলে ব্যাট করেছে ক্রিকেটের এই নতুন বিস্ময়-প্রতিভা।

প্রথম এলিমিনিটরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে ২৯ বলে ৯৭ রান করে প্রায় একার হাতেই তাদের হারিয়ে দেন তিনি – আর অল্পের জন্য মিস করেন আইপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

লিগে অবশ্য হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি। এছাড়া সেকেন্ড কোয়ালিফায়ারেও খেলেছেন ৯৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস, কিন্তু দলকে জেতানো জন্য তা যথেষ্ঠ ছিল না।

এদিকে শচীন তেন্ডুলকর থেকে শুরু করে রাহুল দ্রাবিড়, সুনীল গাভাস্কারের মতো ক্রিকেট লিজেন্ডরা বৈভব সুরিয়াবংশীর তারিফে উচ্ছ্বসিত – ক্রিকেটে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের গলাতেও শোনা যাচ্ছে দরাজ প্রশংসা।

এমন কী, সুরিয়াবংশীকে যাতে এখনই ভারতের সিনিয়র জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই দাবিও জোরালো হচ্ছে।

এবারের আইপিএল সিজনে সম্ভবত সবচেয়ে অবাক করার মতো ঘটনা ছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের টানা ব্যর্থতা।

সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া টিমগুলোর মধ্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছিল অন্যতম, আর শেষ পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচের মধ্যে তারা জিততে পেরেছিল মাত্র ৪টিতে।

তাদের এই ব্যর্থতার পেছনে একটা বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যশপ্রীত বুমরাহ্-র ফর্মে না থাকে।

যে বুমরাহ্-কে টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বোলার বলে ধরা হয়, তিনি এবার ১৩টি ম্যাচ খেলে উইকেট পেয়েছেন মাক্র চারটি। উইকেট নেবার গড় ছিল ১০২.৫০, তার আইপিএল কেরিয়ারে সবচেয়ে খারাপ।

অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংস সিজনের প্রথমার্ধে টানা ছটি ম্যাচে জিতে (একটি ওয়াশআউট-সহ) নিশ্চিত প্লে-অফসের দিকে এগোলেও এরপর আশ্চর্যজনকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে।

এরপর তারা টানা ছটি ম্যাচে হেরে বসে এবং শেষ পর্যন্ত লিগের শেষ ম্যাচে জিতেও প্লে-অফে যেতে পারেনি।

অন্যদিকে গুজরাট টাইটানস প্রথম দিকে নড়বড়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত লীগ পর্যায়ে তাদের শেষ সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছটিতে জিতেই প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে নেয়।

আর একটি টিম যেটি প্রায় টুর্নামেন্টের শুরুতেই ছিটকে গিয়েছিল বলে ধরা হচ্ছিল – সেটি ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স বা কেকেআর।

কেকেআর এবারের সিজনে তাদের প্রথম ছটি ম্যাচের মধ্যে একটিও জিততে পারেনি।

তবে শেষ সাতটি ম্যাচের ছটিতে জেতায় লীগের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের প্লে-অফে যাওয়ার ক্ষীণ আশা ছিল, যদিও রাজস্থান রয়্যালস তাতে শেষ পর্যন্ত জল ঢেলে দেয়।

কেকেআর তাদের বোলিং আক্রমণে এবার যোগ করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে, যাকে সবশেষ নিলামে তারা কিনেছিল ৯.২০ কোটি রুপিতে।

কিন্তু এবছরের গোড়াতেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই-এর নির্দেশে তারা মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় – যে ঘটনার জেরে ফেব্রুয়ারি মাসের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে তাদের দল পাঠাকেই অস্বীকার করে।

এবারের আইপিএলে কেকেআরের বোলিং ব্যর্থতা আর হতাশাজনক পারফরমেন্সের পেছনে মুস্তাফিজকে এই না খেলাতে পারার কারণকেও দায়ী করেছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পিএসজির শিরোপা উদযাপন রূপ নিলো সহিংসতায়, প্যারিসে ৪৫ জন আটক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন