যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউ শহরে একটি কাগজ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ থাকা শেষ দুই শ্রমিকের মরদেহ। এর মধ্য দিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সকালে কলাম্বিয়া নদীর তীরে অবস্থিত নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কারখানায় ৬ লাখ গ্যালন ‘হোয়াইট লিকার’ নামের একটি রাসায়নিক পদার্থভর্তি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়। কাগজ শিল্পে কাঠের চিপসকে জুসের কার্টনে ব্যবহৃত প্যাকেজিং বোর্ডে রূপান্তর করতে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এবং আরও নয়জন শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে কয়েকদিন ধরে চলে উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরতে হয়েছে এবং রাসায়নিক দূষণমুক্ত করার বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে প্রশাসন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় নিহতদের বেশিরভাগই এমন একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন, যেখানে শ্রমিকদের দিনের কাজের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে নিখোঁজ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা ভারী ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে শনিবার শেষ দুই নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। ওই দুইজনের পরিচয় একাধিক উপাত্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ডেন্টাল রেকর্ডসহ অন্যান্য ফরেনসিক পদ্ধতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

