বিজ্ঞাপন

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র সম্পাদক মার্সিয়া লুকাস মারা গেছেন

হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী এবং অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র সম্পাদক মার্সিয়া লুকাস মারা গেছেন। মার্সিয়া ছিলেন কালজয়ী ‘স্টার ওয়ার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম তিনটি সিনেমার নেপথ্যের এক অন্যতম প্রধান সৃজনশীল শক্তি। মহাকাশভিত্তিক এই মহাকাব্যিক সিরিজের শুরুর দিকের আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে তার সম্পাদনা, আবেগীয় গভীরতা ও চমৎকার গল্প বলার শৈলীকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৪৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মডেস্টোতে মার্সিয়া গ্রিফিন নামে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন ফিল্ম লাইব্রেরিয়ান হিসেবে। পরবর্তীতে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে হলিউডের সবচেয়ে সম্মানিত সম্পাদকদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ লুকাসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মার্সিয়া। এরপর স্বামীর শুরুর দিকের কিছু চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেন, যার মধ্যে ‘আমেরিকান গ্রাফিতি’ সিনেমার জন্য তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম অস্কার মনোনয়ন পান।

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মূল ‘স্টার ওয়ার্স’ (যা পরে ‘এ নিউ হোপ’ নামে পুনর্নামকরণ করা হয়) চলচ্চিত্রের জন্য রিচার্ড চিউ এবং পল হার্শের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা চলচ্চিত্র সম্পাদনার একাডেমি পুরস্কার অস্কার জয় করেন মার্সিয়া। পর্দার আড়ালে কাজ করলেও ‘স্টার ওয়ার্স’-এর গল্পকে দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন তিনিই। বিশেষ করে সিনেমার শেষদিকের জটিল ‘ডেথ স্টার’ যুদ্ধক্ষেত্রের কয়েক হাজার ফুটের এলোমেলো সংলাপের ফুটেজ জোড়া লাগিয়ে একটি চমৎকার দৃশ্যকাব্য তৈরির পুরো কৃতিত্ব মার্সিয়াকে দিয়েছিলেন খোদ জর্জ লুকাস।

জর্জ লুকাসের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাকালীন তিনি ১৯৮০ সালের ‘দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাক’ এবং ১৯৮৩ সালের ‘রিটার্ন অব দ্য জেডি’ সিনেমাতেও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮১ সালে এই দম্পতি আমান্ডা নামের এক কন্যাসন্তান দত্তক নেন। তবে দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার জীবনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৮৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে তিনি স্কাইওয়াকার র্যাঞ্চের প্রোডাকশন ম্যানেজার টম রদ্রিগেসকে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে অ্যামি নামে কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

শুধু ‘স্টার ওয়ার্স’-ই নয়, মার্সিয়া লুকাস সত্তরের দশকে বিখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসেসির সঙ্গেও কিছু প্রশংসিত চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। যার মধ্যে ‘অ্যালিস ডাজন্ট লিভ হেয়ার অ্যানিমোর’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ এবং ‘নিউ ইয়র্ক, নিউ ইয়র্ক’ অন্যতম।

নিজের কাজ সম্পর্কে একবার মার্সিয়া লুকাস বলেছিলেন, ‘আমি চলচ্চিত্র সম্পাদনা ভালোবাসতাম। ভালো উপাদানকে আরও দুর্দান্ত করে তোলা এবং সাধারণ মানের উপাদানকে সুন্দর রূপ দেওয়ার একটি সহজাত ক্ষমতা ঈশ্বর আমাকে দিয়েছিলেন।’

সূত্র : বিবিসি

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দীন আবসার আর নেই

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন