রাজশাহীর তানোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমির পাকা ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির ধানুরো মৌজায় ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা। এঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে ধান পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় আগা খান ও ইব্রাহিম দিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এঘটনায় জমির মালিক আগা খান পরপর দুদফা থানায় জিডি ও আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারে কীটনাশক প্রয়োগ করে প্রায় তিন বিঘা জমির পাকা ধান নষ্ট করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ ইব্রাহিম গংরা বলে দাবি করেন আগা খান।
থানার জিডি তথ্যমতে জানা যায়, বিবাদী ইব্রাহিম গংদের সাথে জমি জমা সংক্রান্ত প্রায় এক বছর ধরে বিবাদ চলে আসছে। জমিতে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করে। কিন্তু বিবাদীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের পায়তারা করে আসছে। এঅবস্থায় গত মে মাসের ১৫ তারিখে মাদারিপুর বাজারে বাদীর ভাই ইয়াহিয়া খানের পথরোধ করে ইব্রাহিম গংরা মারমুখী আচরণ করে পরিবারসহ প্রাণ নাশের হুমকি এবং মামলা দিয়ে চাকুরিচুৎ করার হুমকি দেয়। এসব জেরে ঈদের আগে ও পরে প্রায় তিন বিঘা জমির পাকা ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করে পুড়িয়ে ফেলেছে ইব্রাহিম গংরা।
প্রসঙ্গত, আগা খান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিগত এক বছর ধরে জমি নাকি ইব্রাহিম দিংদের। আমাদের নামে খাজনা খারিজ চলমান রয়েছে। মৌখিক ভাবে জমি দাবি করলে তো হবেনা। আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেছে। কিন্তু তারা কোন কিছুর তোয়াক্কা করছেনা। জমির পাকা ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করে পুড়িয়ে দিয়েছে। জমিতে ধানের বিপরীতে এখন শুধু চিটা। খড়ও পাওয়া যাবেনা। তাদের ভয়ে জমিতে যাওয়া যাচ্ছে না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন আদালত যে রায় দিবে সেটা মেনে নিব। তাদের জমি দাবি করছে তাহলে আমাদের নামে খাজনা খারিজ কেন। খারিজ খাজনা ও আদালতের রায় বাতিল করে নিজেদের নামে রায় এনে জমি নিজের বলে দাবি করুক।
জানা গেছে, বাদী গোলাম আগা খান বিবাদী ইব্রাহিম সহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (মহানগর) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারা মতে হাজির হয়ে বিধান মতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রসেস নং ৭৮২(২) তারিখ ২৮/০৪/২০২৬ খ্রী: মোতাবেক বিজ্ঞ আদালত বর্ণিত স্থানে নিন্মবর্নিত আদেশ প্রদান করেন।
আদেশে বলা হয় , দেখলাম। সবিস্তারে শুনানী করা হল। সার্বিক বিবেচনায় ১৪৪/১৪৫ ধারায় কেন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবেনা এ বিষয়ে প্রতিপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হল। ইতিমধ্যে বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে আদেশ দেয়া হল। প্রতিপক্ষের প্রতি আগামী ১৮/০৬/২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হল।
এমতাবস্থায় উপরোক্ত আদেশটি নোটিশ আকারে আপনাদেরকে অবহিত করা হল। আপনারা উক্ত সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিবেননা। ইহার অন্যথা হইলে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, ১৪৪/১৪৫ ধারা অমান্য করে জমির ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। অথচ আদালত শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ করছেন। কিন্তু আদেশ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে কোন কাজ নেই। কাগজ যার জমি তার। আবার আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তারপরও ধান নষ্ট করা হচ্ছে।
বিবাদী ইব্রাহিম জানান, জমি আমরা রোপন করেছি। ধান কাটার আগ মুহূর্তে তারা নষ্ট করে দিয়েছে। আগা খানরা মামলাবাজ। তারা আদালত থেকে একতরফা রায় এনে জমি নিজের বলে দাবি করছে। তাদের নামে খারিজ খাজনা আছে সেটা বাতিল হয়নি, আবার ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি আছে তারপরেও আপনারা ধান পুড়িয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আদালতের কোন নোটিশ পায়নি। খাজনা বন্ধ করা হয়েছে, আমি জমি রোপন করেছি এসবের ভিডিও আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
১৪৪/১৪৫ ধারা আদেশের নোটিশে স্বাক্ষর আছে এএসআই আশরাফুল ইসলামের। তার মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এসএম মাসুদ পারভেজের সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। যার কারনে এসংক্রান্ত তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেল ভাড়া, সকালে মিললো দুইজনের মরদেহ


