চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের অভিযোগ এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কফিলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (১ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির অনুমোদনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আওতাধীন পটিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান কফিলকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার (৩১ মে) দুপুরে উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগ ওঠে কফিলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে তাকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। একই ভিডিওতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এক নারীকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতেও দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সঙ্গে কফিলের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল। ঘটনার দিন স্থানীয়রা তাকে আটক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কফিলের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লিখিত মুচলেকা নেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়। পরে স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান কফিল। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি বলেন, তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে ব্যক্তিগত লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, কোলাগাঁও ইউনিয়নের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন- রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা


