কুড়িগ্রামের শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার একটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. আলমগীর গাজীকে (৩৬)সাড়ে ৬ মাস পর কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
বুধবার ২ জুন রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
র্যাব-১৩ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ গান্দিগাঁও এলাকার একটি রাস্তার পাশের ঝোঁপ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে।
তদন্তে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি মোছা. এলিজা বেগম (৩৫), যিনি গ্রেফতারকৃত আলমগীর গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী। তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন আলমগীর। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ঝোঁপের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১ জুন) দুপুরে র্যাব-১৩, সিপিএসসি রংপুর ক্যাম্পের একটি দল কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে প্রধান পলাতক আসামি আলমগীর গাজীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আলমগীরের বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার জায়গীর মহল আমাদী এলাকায়। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার একটি মৎস্য খামারে অবস্থান করছিলেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : জমি হাতিয়ে নিতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযাগ


