নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আব্দুর রহিম আহম্মদ (৭৭) নামে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রফিক (৩২) ও কামরুল (২১) নামে দুজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা পৌনে ১টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুর রহিম আহম্মদের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানাধীন বলাইশিমুল গ্রামে। তার পরিবারের সাথে গ্রেফতারকৃত আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ১৪ মে বিকেলে আব্দুর রহিম তার নিজ বাড়ির সংলগ্ন জমিতে গেলে অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আসামিদের ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটার এলোপাতাড়ি আঘাতে আব্দুর রহিম গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন।
হামলার পর স্থানীয়রা আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান পিন্টু (৪১) বাদী হয়ে গত ১৯ মে কেন্দুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গ্রেফতার এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি আমলে নিয়ে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল ঢাকা র্যাব-১ এর সহায়তায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকেই আত্মগোপনে থাকা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক ওই দুজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পড়ুন: ফকিরহাটে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় কথিত চাচা আটক
আর/


