বিজ্ঞাপন

কৃষকরাই পারে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে: এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত

পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেছেন, “কৃষকরাই পারে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে কৃষকবান্ধব রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

বিজ্ঞাপন

শনিবার পিরোজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি নাছির আহম্মেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিব খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

বক্তব্যে এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন দেশের কৃষক ও গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে। তিনি বিশ্বাস করতেন ‘কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে কৃষকের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। কৃষির উন্নয়নে তিনি শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি, বরং নিজ হাতে কোদাল নিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, তৎকালীন সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। এমন সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে খাদ্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছিল এবং দেশ থেকে বিদেশে চাল রপ্তানিও সম্ভব হয়েছিল।”

কিসমত বলেন, “১৯৮১ সালের ৩০ মে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদাৎবরণ করেন। তাঁর শাহাদাতের পর দেশের গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। পরবর্তীতে সামরিক শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হয় এবং দীর্ঘ নয় বছর দেশের মানুষকে দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়।”

তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই পরিচালিত হয়েছে। আজ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন, তেমনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

কৃষক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি কৃষক সমাজ। আপনাদের শ্রম, মেধা ও উৎপাদনই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই কৃষকদের সংগঠিত শক্তিই আগামী দিনের আত্মনির্ভর বাংলাদেশ নির্মাণের প্রধান চালিকাশক্তি হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুস্থ কৃষকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পড়ুন- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন