বিজ্ঞাপন

বাবার চোখে স্বপ্ন, শিকলবন্দি ছেলে ফিরুক স্বাভাবিক জীবনে

জীবনের ২১টি বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ পাননি আশরাফুল। দীর্ঘদিন ধরে শিকল ও তালাবদ্ধ অবস্থায় দিন কাটছে তার। দারিদ্র্য, অসুস্থতা এবং চিকিৎসার অভাবে এক তরুণের জীবন যেন থমকে গেছে চার দেয়ালের মধ্যে।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল। ছয় বছর বয়সে হঠাৎ পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) আক্রান্ত হয়ে তার একটি হাত অবশ হয়ে যায়। একই সঙ্গে দেখা দেয় মানসিক জটিলতা।

এরপর থেকেই শুরু হয় পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম। আশরাফুলের বাবা খলিল মোল্লা একজন দিনমজুর। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে পরিবারের সহায়-সম্বল প্রায় শেষ হয়ে যায়। এরপর আর নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

খলিল মোল্লা জানান, চিকিৎসার অভাবে ছেলের অবস্থার উন্নতি না হলেও তাকে বাঁচিয়ে রাখার আশা কখনো ছাড়েননি তিনি। তবে অর্থ সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আশরাফুলের বয়স যখন আট বছর, তখন একদিন হঠাৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এরপর থেকেই পরিবারে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পুনরায় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

ছয় সন্তানের মধ্যে আশরাফুলই বড় ছেলে। দুই ছেলে ও চার মেয়ের এই পরিবারে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন বাবা-মা। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভাবে সেই স্বপ্ন এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রুবেল মিয়া জানান, উপযুক্ত চিকিৎসা ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আশরাফুলের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটানো আশরাফুল আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজেরও এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : “বাবাকে পিটিয়ে হত্যার বিচার চাই” শিশু কন্যা ওয়াকিয়ার আর্তনাদ!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন