চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একই দিনে পৃথক তিনটি মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক শিশু, এক শিকারি ও এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবক। শনিবার (৬ জুন) উপজেলার নারায়নহাট, খিরাম ও সুয়াবিল ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রথম ঘটনায় উপজেলার নারায়নহাট ইউনিয়নের শৈলকূপা এলাকার পরানপাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে সাইরা মনি (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলাধুলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে বিকেলে উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের সর্তা বিট এলাকার বনাঞ্চলে হরিণ শিকার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. জমির উদ্দিন (৪৬)। তিনি খিরাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় হরিণ শিকারে যান জমির উদ্দিন। একপর্যায়ে অন্য এক শিকারির বন্দুক থেকে অসাবধানতাবশত গুলি ছুটে তার শরীরে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় সঙ্গীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
খিরাম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল হুদা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই জমির উদ্দিনকে খিরাম চৌমুহনী এলাকার পল্লী চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলামের কাছে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
খিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বনাঞ্চলে হরিণ শিকার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একই দিনে উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নে জাম সংগ্রহ করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারান আলমগীর (৪০) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবক। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বড় জাম গাছে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে যে ডালে অবস্থান করছিলেন সেটি ভেঙে গেলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে।
একই দিনে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় ফটিকছড়িজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন মর্মান্তিক দিনকে ‘দুঃখের শনিবার’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

