বিজ্ঞাপন

১৬০ অর্থনীতিবিদের ভবিষ্যদ্বাণী : স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, প্রবৃদ্ধি কিংবা বৈশ্বিক অর্থনীতির জটিল সমীকরণ নিয়েই সাধারণত ব্যস্ত থাকেন অর্থনীতিবিদেরা। তবে চার বছর পরপর ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই তাদের আলোচনার টেবিলে জায়গা করে নেয় আরেকটি বিষয় কে জিতবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর?

আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। সেখানে অংশ নেয়া অর্থনীতিবিদদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা উঠতে পারে ফ্রান্সের হাতে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে ফরাসিরা।

জরিপে ৩৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় এরপর আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।

এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ একটি কীর্তির মালিক হবেন। ইতালির কিংবদন্তি ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের পর আবার কোচ হিসেবে শিরোপা জয়ের বিরল কৃতিত্বও অর্জন করবেন।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখার পেছনে কয়েকটি কারণও উঠে এসেছে। লন্ডনভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরবিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডির মতে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের হতাশা পেছনে ফেলে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ফরাসিরা। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের সংযোজন দলটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। আর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তিনি দেখছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে, যিনি বর্তমানে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন।

এমবাপ্পেকে শুধু সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের প্রধান অস্ত্র হিসেবেই নয়, ব্যক্তিগত পুরস্কারেরও অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, আগামী বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ফরাসি তারকা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো কেইন ইতিমধ্যে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন এবং বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে এই দুই তারকার সামনে। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা বর্তমানে ১২, আর কেইনের ৮। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির পাশাপাশি আলোচনায় আছেন তারাও।

তবে জরিপে শুধু সম্ভাব্য সাফল্যের গল্পই উঠে আসেনি, এসেছে সম্ভাব্য হতাশার কথাও। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় হতাশাজনক পারফরম্যান্স করতে পারে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচ দায়িত্বে থাকলেও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না অনেক বিশ্লেষক। সম্ভাব্য হতাশার তালিকায় ব্রাজিলের পর রয়েছে ইংল্যান্ড ও জার্মানি।

মজার বিষয় হলো, সব অর্থনীতিবিদ যে কঠোর তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছেন, তা নয়। জরিপে অংশ নেয়া ৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ স্বীকার করেছেন, তাদের পছন্দের পেছনে কাজ করেছে নিজ দেশের প্রতি আবেগ। সে কারণেই কেউ জাপানকে, কেউ মেক্সিকোকে, আবার কেউ মরক্কোকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদ জানিয়েছেন, তারা মূলত ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অন্তর্দৃষ্টির ভিত্তিতে নিজেদের পূর্বাভাস দিয়েছেন। মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী কঠোর ডেটা ও গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন